সংকটের বাংলাদেশে আরও এক ভয়াবহ সংকটের খাঁড়া নামতে চলেছে। দেশটিকে বলা হত “The Garment factory of the World.”সেই দেশ আগামাদিনে বড় ধরনের বিপদের মধ্যে পড়তে চলেছে। ভারত থেকে যাওয়া সুতোর ওপর বড়ো ধরনের শুল্কছাড় দিয়ে থাকে বাংলাদেশ। আর সেই ছাড় তাদের বিপদ ডেকে এনেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই ছাড়ের জন্য স্থানীয় সুতো কারখানাগুলি বিরাট সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। শুল্কছাড় বন্ধের দাবি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে স্পিনিং ইউনিট বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে টেক্সটাইল মিলের মালিকরা। মিল মালিকদের দাবি, বিনাশুল্কে সস্তায় বিদেশি (ভারতীয় এবং চিনা) সুতো আমদানি করা হচ্ছে। ফলে, জামাপ্যান্ট তৈরির কোম্পানিগুলি সেইগুলিকে কিনছে। স্থানীয় স্পিনিং মিলের বানানো সুতো কেউ কিনছে না। মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে তারা পড়েছে।
ঢাকা পড়েছে জাতাকলে। একদিকে ১০ লক্ষ চাকরি শেষ, অপরদিকে দেশের জিডিপির ১৫% গায়েব। ইউনূস ভেবেছিলেন ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, নতুন ভারত ডিফেন্সিভে খেলার পাশাপাশি অফেন্সিভেও খেলে। আসলে বন্ধু যখন শত্রু হওয়ার চেষ্টা করে বা শত্রুসুলভ আচরণ করে, তখন ভারত নেয় কৌশলি পদক্ষেপ।
খেলাটা খেলেছিল বাংলাদেশ প্রথম। আট থেকে নয় মাস আগে। তদারকি সরকার চেয়েছিল ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে। তাই তারা ভারত থেকে স্থলপথ দিয়ে আসা সুতো রফতানির ওপর জারি করে নিষেধাজ্ঞা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ব্যবসা বন্ধ করা। ভারতের রাজস্ব হ্রাস করা। আর সেটা করতে গিয়ে তদারকি সরকার নিজেরাই প্যাঁচে পড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ যখন স্থলপথ দিয়ে ভারতীয় পণ্য রফতানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, সাউথব্লক সিদ্ধান্ত নিল রুট বদলের। বাংলাদেশ জলপথে রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়। মাত্র এক বছরের মধ্যে ভারত দুই বিলিয়ন সুতো বাংলাদেশে বিক্রি করে দিয়েছে। শতাংশের হিসেবে ১৩৭ শতাংশ। ভারতের এই সুতো শুধু সস্তাই নয়, গুণগত মানেও এই সুতো বেশ উন্নত। বাংলরাদেশে তৈরি হওয়া সুতোর চেয়ে অনেক ভালো। বাংলাদেশের জামা-কাপড় তৈরির কারখানাগুলো সে দেশে তৈরি হওয়া সুতো আর কিনতে চাইছে না। বস্ত্র প্রস্তুতকারদের স্বার্থেই এতোদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার আমদানিতে কোনও কর ধার্য করত না।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিলের মালিকেরা এখন সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে। গুদামে পড়ে রয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকার সুতো। সেগুলি নষ্ট হওয়ার পথে। এর জন্য সরকারের নীতিকে দায়ি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী যারা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাপড় এক্সপোর্ট করে, তারা বিদেশ থেকে কাঁচা মাল আনলে তাদের কোনও কর দিতে হয় না। যাকে বলা হয় ডিউটি ফ্রি ইমপোর্ট। বাংলাদেশের বস্ত্র মালিকেরা দেখলে, দেশের সুতোর দাম বেশি। অথচ গুণগত মান মোটেই তেমন নয়। কিন্তু ভারত থেকে সুতো আমদানি করলে সেটা দামেও কম পড়ছে। গুণগত মান বেশ ভালো। তারা দেশের সুতোর মিল থেকে সুতো না কিনে ভারত থেকে সুতো কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। আর তাতে মহাসমস্যায় পড়ে যান তদারকি সরকার প্রধান।
বাংলাদেশে ভারতের সুতো বিশেষভাবে সমাদৃত। সুতির জামাকাপড় তৈরির জন্য বাংলাদেশের পোশাক মালিকেরা ভারতের সুতোর ওপর নির্ভরশীল। পলিয়েস্টার সুতোর ক্ষেত্রে তারা চিনের ওপর নির্ভর করে। শুল্ক ছাড় থাকায় তারা বিদেশ থেকে ভালো মানের সুতো কিনতে পারছে। তাতেই টেক্সটাইল মিলগুলির মাথায় হাত। তদারকি সরকার প্রধানের কাছে তাদের মিল মালিকদের আর্জি সুতো আমদানিতে কোনও ট্যাক্স ছাড় না দেওয়া হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post