হাদি-কাণ্ডে ইউনূস সরকারের খেল খতম। সেই সঙ্গে চূড়ান্ত বেইজ্জত।
হাদিকে গুলি এবং তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ইউনূস সরকার থেকে শুরু করে হাদির অনুগামীরা গলা ফুলিয়ে বলে এসেছেন যে এই ঘটনায় ভারত জড়িত। দিল্লি থেকে পদ্মাপারে এসেছিল ভাড়াটে গুণ্ডা। তারা হাদিকে গুলি করে আবার দিল্লি চলে গিয়েছে। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির তীব্র বাদানুবাদ চলে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মাকে বার দুয়েক তলব করা হয়। তাঁকে বলা হয়, হাদির খুনিরা যদি ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকে, তাহলে তাদের যেন ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের এই দাবিকে খণ্ডন করে সে দেশের পুলিশ। জানায়, ভারত থেকে কোনও গুণ্ডা বাংলাদেশে এসে হাদিকে গুলি করেনি। কিন্তু ইউনূস সরকার, হাদির অনুগামারী তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। এবার হাদির ভাই তাঁর দাদার মৃত্যু নিয়ে যা বলল, তা ইউনূস সরকারের পক্ষে চূডা়ন্ত বেইজ্জতি শুধু নয়। ইউনূসকে এখন নিজের থুতু নিজেকেই গিলতে হচ্ছে।
তার আগে একবার দেখে নেওয়া যাক, ভারত বিদ্বেষী এই নেতাকে ইউনূস কীভাবে এক জননেতায় পরিণত করেছেন। তাকে আবার শহীদ আখ্যা দিয়েছেন। শুনুন ইউনূসের নিজের গলায়।
শরিফ ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করছি। তার প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপুরণীয় ক্ষতি। আমি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্বজন, সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।
হাদির ভাইয়ের গলায় যা শোনা গেল তার প্রেক্ষিতে এখন একটাই প্রশ্ন – হাদির স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব সরকার নেবে তো। কী বলেছেন শরিফ ওমর হাদি? সরাসরি সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে। মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে ‘শহিদি শপথ’ নামে একটি কর্মসূচির আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। সেই সংগঠনের আহ্বায়ক ছিলেন নিহত হাদি। মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে হাদির দাদা বলেন, “ ওসমান হাদি বলেছিল, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন করার জন্য সে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু তাকে হত্যা করে নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
সেই কর্মসূচিতে হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিও তুলেছেন দাদা ওমর। তিনি বলেন, “ওসমান হাদি শহিদ হয়েছেন আজ ষষ্ঠ দিন। সরকার পদক্ষেপ করার বিষয়ে কোনও অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সরকারের কাছে দাবি জানাই, হাদির খুনিচক্রকে জাতির সামনে তুলে ধরুন।” এই প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের কথাও তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, “একটা কথা মনে রাখবেন, বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের আগে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, যারা রাষ্ট্রকে নিজেদের মনে করতেন, তারা কিন্তু আজ আর বাংলাদেশে নেই। তাঁরা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ওসমান হাদির খুনের বিচার না হলে আপনারাও একদিন দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবেন। ”
0.0- 0.20
হাদির দাদা আরও বলেন, “যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন, মনে রাখবেন, সেই ওসমান হাদি কোনও এজেন্সি, কোনও রাষ্ট্র, কোনও তাবেদারের কাছে মাথা নত করেনি। সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা যখন ক্ষমতায়, তখন ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার দায় আপনারা এডা়তে পারেননি। আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক, ১০ বছর পরে হোক। বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে। ”
তার মানে বাংলাদেশের অঙ্ক ঘুরে গিয়েছে ১৮০ ডিগ্রি।












Discussion about this post