বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর এই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আজ অর্থাৎ ১২ ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের পর বিজয়ী দল বা জোট সরকার বাংলাদেশের সিংহাসনে সরকার গঠন করবে।
কিন্তু এরপরে ইউনূস সহ ইউনূসের উপদেষ্টা পারিষদ সদস্য কি করবেন? তারা কি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিয়ে বেছে নেবেন নতুন জীবন? নাকি কোনভাবে থেকে যাবেন সরকারের কোন পদে? তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।
ভোটের মাধ্যমে জয়ী দল তৈরি করবে বাংলাদেশের নতুন সরকার। তার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে ইউনূস উপদেষ্টাদের রাজত্বকাল।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে পতন হয়েছিল তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। তার পর ৮ অগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তারপরেই পদ্মা দিয়ে গড়িয়ে গেছে অনেক জল। দেড় বছর পর এই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারে ছিলেন ২০ জন উপদেষ্টা সদস্য। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাঁদের কেউ শিক্ষকতায়, কেউ বা লেখালিখিতে ফেরার কথা জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমে সামনে।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি আবার ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে যোগ দেবেন। সালেহউদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে কিছু দিন বিশ্রাম নিয়ে মার্চ মাসে পুরনো কর্মস্থলে ফিরতে চান তিনি। শিক্ষকতায় ফিরতে চান ইউনূস সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি মৌলিক বিষয়ে লেখালিখি এবং গবেষণা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। নজরুলের কথায়, ‘খুব অপেক্ষায় আছি, কখন আমার সেই প্রিয় জীবনে ফিরে যাব।’অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হাসান লেখালিখিতে ফিরতে চান। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি এসে জানিয়েছেন, ‘আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নেব। এর পর আগের মতোই লেখালিখিতে ফিরতে চাই।’ খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রকের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার আবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখতেন। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তিনি আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান বলে জানিয়েছেন আলী ইমাম।
নজরুলের মতোই লেখালিখিতে ফিরতে চান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। উপদেষ্টা হওয়ার পর সরকারের তরফে যে গাড়ি পেয়েছিলেন, তা ফেরক দিয়ে দিচ্ছেন তিনি। নতুন গাড়ি কেনার বিষয়েও খোঁজখবর শুরু করেছেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ জানিয়েছেন, আপাতত কিছু দিন নিরিবিলিতে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তার পর মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। জুলাই আন্দোলনে যুক্ত নারীদের নিয়েও কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন শারমীন।ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রকের উপদেষ্টারা তাঁদের সচিবালয় থেকে জিনিসপত্র গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস অবশ্য নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর প্রেস শাখার তরফে জানানো হয়, শিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের সাত সদস্যের একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউনূস। তা ছাড়া আরও একটি বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইউনূস ঢাকার গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন মিটলে তিনি কী কী কাজ করতে চান, ইতিমধ্যেই তা জানিয়েছেন স্বয়ং ইউনূস নিজেই। তিনি ‘ডিজিটাল হেল্থকেয়ার ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নারীদের প্রবেশাধিকার বাড়বে বলে জানান তিনি। তা ছাড়া তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই কাজ চালানোর কথা জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনূস।












Discussion about this post