খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দারবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা কার্যত হিংসার আগুনে জ্বলছে। অপরদিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও এবার হিংসাত্মক আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুলির এবং মুসলিম কট্টরপন্থীদের হামলার প্রতিবাদে আদিবাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের ডাকা সর্বাত্মক অবরোধে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা। এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন’ নামের আরেকটি সংগঠনও। কিন্তু কেন এই আন্দোলন এতটা দানা বাঁধলো?
পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা চাকমা এবং অন্যান্য জনজাতি গোষ্ঠীর উপর গত ৭২ ঘণ্টা ঘরে ধারাবাহিক হামলা চলছে বলে দাবি। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, কুকি, ব্রু এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারেরও বেশি বাড়িঘর, ধর্মস্থান, দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিংসার বলি হয়েছে বলেও দাবি। এখনও পর্যন্ত ১০ জনের বেশি অমুসলিম খুন হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের তরফে। অথচ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এই সংগঠনকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের হিংসার জন্য দায়ী করেছে। এমনকি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধূরী আরও এক কাঠি উপরে গিয়ে এই ঘটনার জন্য ভারত ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকেও দায়ী করেছেন।
বাইট – জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মুখে যাই বলুন আসল ঘটনা হল, বাংলাদেশ সেনা, বিজিপি এবং র্যাব বাহিনীও বিচ্ছিন্নতাবাদী দমনের অছিলায় অমুসলিমদের উপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। যেমনটা বাংলাদেশের বাকি অংশে হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার ও আক্রমণ চলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়িতে তিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে বাংলাদেশ সেনা। অথচ তার ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, ইউপিডিএফ অশান্তিতে প্ররোচনা দিচ্ছে। আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে সেনা।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দা এই চাকমা সম্প্রদায় মূলত বৌদ্ধ। তাঁরা প্রথম থেকেই ভারতের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশভাগের সময় আশ্চর্যজনকভাবে জওহরলাল নেহেরু তাঁদের দাবি মানেননি। ফলে অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম মুসমিল শাসকের অধীনে পূর্ব পাকিস্তানেই থেকে যায়। সমস্যার শুরু তখন থেকেই। সেই ১৯৪৭ সাল, পরে ১৯৭১ সালেও এই এলাকার বাসিন্দারা ভারতের মধ্যে যুক্ত হতে চেয়েছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে তাঁরা প্রথম থেকেই অত্যাচার ও নানা ধরণের সমস্যা নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু গত বছর হাসিনা সরকার উৎখাত হওয়ার পর, মুহাম্মদ ইউনূসের রাজত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের মুসলিমদের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তাঁদের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠছে সেনা, বিজিবি ও পুলিশের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই এলাকায় রোহিঙ্গাদের ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরাই লুটপাট ও নারী নির্যাতন করছে। এবার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, কুকি, ব্রু এবং অন্যান্য জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষজন আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। যাকে ভারতের মদত বলে আখ্যা দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরেও শুরু হয়ে গিয়েছে প্রবল জনবিক্ষোভ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একটি স্বাধীনতাকামী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি বিশাল জনসমাবেশ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের জন্য ওই এলাকার বাসিন্দাদের একত্রিত করছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদ, মিরপুর, কোটলি, স্কার্দু, নিলম ভ্যালিতে পাক সেনাবাহিনীকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্ত রাস্তা, সেতুতে বড় বড় পাথর, কনটেইনার রেখে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও স্থানীয়দের বিক্ষোভ ঠেকাতে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়েছিল। তাতে তিনজনের মৃত্যু হয়। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। দুদিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তান সেনার কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমনটা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে। সবটাই কি ভারতের উস্কানিতে? উত্তর খুঁজছে ভারতের দুই পড়শি দেশ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post