ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গত রবিবার এবং পরেরদিন সোমবার যা হয়ে গেল, তা কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। কোনও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ তাকে সমর্থন করতে পারে না। তারপরেও বলতে হয়, এটা তো হওয়ার ছিল। আজ হোক বা কাল – এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের প্রবেশ পথে পাকিস্তানের প্রতীকী পতাকার ওপর হেঁটে কয়েকজন বিদ্যার্থী প্রতিবাদ জানিয়েছে। সমাজ মাধ্যমে সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। প্রথম এই ঘটনা ঘটে রবিবার, ৭ ডিসেম্বর সার্জেন্ট জরুল হক হলে, পরেরদিন সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলে। কোনও দেশের জাতীয় পতাকার ওপর পা যে রাখা যায় না, তা আমাদের সকলের জানা। এমনকী জাতীয় পতাকা পোড়ানো যায় না। যারা এই কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সংস্থান রয়েছে। তারপরেও বলতে হয়, গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের পর থেকে বাংলাদেশের বুকে যা ঘটে গিয়েছে, তাতে সে দেশের মানুষের একাংশ রীতিমতো ক্ষিপ্ত। ইউনূস সরকার দায়িত্বের সঙ্গে দেশটাকে পাকিস্তানের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। আর তার ফল যা হওয়ার হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতীকী জাতীয় পতাকায় লেখা রয়েছে ‘নো কমপ্রোমাইজ উইথ রাজাকার। ’ (রাজাকারদের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়) পতাকায় আরও লেখা ছিল ‘হিট দ্য রাজাকার্স অন বোথ চেকস উইথ শুজ’( রাজাকারদের গালে জুতো মারো)। ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করিব চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘এটা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে, যারা রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। তাঁরা আমাদের কাছে সম্মানীয়। একই সময়ে এই কর্মসূচি রাজাকার এবং পাকিস্তানি শক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণার উদ্দেশ্য। ’
জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশপথের মেঝেতে পতাকা লাগিয়ে তার ওপর হেঁটে যাওয়া গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী কারিব চৌধুরী বলেন, ‘মহান বিজয় দিবসের এই মাসে আমাদের আজকের উদ্যোগ হল সেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার এক প্রকাশ, যাঁদের ত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি। একই সঙ্গে আমরা ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাই সেই পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের প্রতি, যারা আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালিয়েছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। ’
কারিব আরও বলেন, ‘এই প্রতিবাদ, এই ক্ষোভ – সবই আমাদের ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবতার প্রতি অঙ্গীকার থেকে উৎসারিত। আশা করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের এই উচ্চারণ এবং স্বাধীনতার মূল্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার বার্তা দেবে। ’
এই ঘটনা কিন্তু তদারকি সরকারের জন্য একটা বার্তা। বার্তা সতর্ক হওয়ার। সে দেশের সঙ্গে পাকিস্তান সেনার মাখামাখি, ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার হৃদ্যতা যে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, ভাল চোখে দেখছে না, সেটা এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কিন্তু প্রতীকী পতাকাকে পদদলিত করাকে সমর্থন করছে না। কিন্তু তারাও আড়ালে বলছে, এটা হওয়ার কথাই ছিল। তার ক্ষেত্রে প্রস্তুত করে রেখেছিলেন ইউনূস সরকার। তাঁর সামনে এখন একটা রাস্তা খোলা – হয় পাকিস্তানের সঙ্গে মাখামাখি বন্ধ করা না হলে স্বেচ্ছায় গদির মায়া ত্যাগ করা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post