শেক্সপীয়ারের রোমি-জুলিয়েটের বিখ্যাত উক্তি মনে পড়ে – হোয়াটস ইন এ নেম?
নামে অনেক কিছু আসে এবং যায়। ভারতীয় সেনার তিন শাখা মঙ্গলবার থেকে অরুণাচল প্রদেশে নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে মেচুকায় শুরু করেছে মহড়া। এর নাম রাখা হয়েছে পূর্বী প্রচন্ড প্রহার। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য চিনকে বার্তা দেওয়া। পাকিস্তানকে এক দফায় দাওয়াই দিয়েছে। এবার সাউথব্লকের নজরে চিন। ১ নভেম্বর প্রতিরক্ষা জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন এই মহড়ার মূল কারণ। এই মহড়া শুরু হওয়ার আগের দিন শেষ হল অপারেশন ত্রিশূল। মহড়া ছিল ১২ দিনের। শুরু হয় পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই মাসের শুরুতে পাকিস্তানকে সতর্ক করতে গিয়ে বলেন, তারা যেন ভারতের অর্ধেক স্যর ক্রিক অবৈধভাবে দখল করার সাহস না দেখায়। এটি দুই দেশের সবচেয়ে পশ্চিম সীমানা, অর্থাৎ পশ্চিমের অর্ধেক অংশ পাকিস্তানের এবং পূর্বের অংশ ভারতের। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এও বলতে শোনা যায় যে ভারতীয় ভূখণ্ড দাবি করার প্রচেষ্টা এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারে, যে পরিস্থিতি বদলে দেবে ভূগোল সহ মানচিত্রকে। আর এই মহড়ার বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে যে কোনও রকমের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেই এই মহড়া। বলা হচ্ছে সাউথ ব্লক এর আগেও সীমান্তে বহুবার সেনা মহড়া চালিয়েছে। কিন্তু অপারেশেন ‘পূর্বী প্রচন্ড প্রহার’ রের যে বহর, তা অতীতের সব মহড়াকে ছাপিয়ে গিয়েছে। মহড়ায় অংশ নিয়েছে ভারতীয় স্থল সেনার নতুন ইউনিট ভৈরব ব্যাটিলিয়ন। ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অশ্বিনী প্ল্যাটুন, দিব্যাস্ত্র। মহড়ার জন্য জারি করা হয়েছে নোটাম।
চিনের গা ঘেঁষে মহড়া শুরুর আগে ভারতের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে একটা স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে ভারত যে কোনও মূল্যে তার ভূখণ্ড রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে জাতির স্বার্থে অপারেশন সিঁদুরের পুনরাবৃত্তি ঘটাতেও তারা পিছপা হবে না। এই লক্ষ্যে পাকিস্তান সীমান্তের ত্রিশূল নামে ১২ দিনের একটি মহড়া শুরু করে ভারতীয় সেনা। ত্রিশূলে অংশ নিয়েছিল বিশেষ বাহিনীর কম্যান্ডো, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি, যুদ্ধজাহাজ, ট্যাঙ্ক, রাফালে, সুখোই এসইউ ৩০ সহ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সেনার মহড়ায় স্থল সেনার তরফ থেকে পাঠানো হয়েছে টি -৯০ যুদ্ধট্যাংক এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র। পাঠানো হয়েছে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইউনিটও। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের প্রজেক্টটাইল ব্যারাজকে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে। এর আগে এই ধরনের মহড়ার একটা ছোটে সংস্করণ হয়েছিল ২০২৩য়ে। সেই মহড়ার নাম দেওয়া হয় ভালা প্রহার। পরের বছর ভারতীয় সেনা আরও একটি মহড়া চালায়। তার নাম রাখা হয়েছে পূর্বী প্রহার। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে, পূর্বী প্রচন্ড প্রহার গত বছরের মহড়ার শেষ পর্যায়ের। প্রশ্ন উঠছে, কেন ভারতীয় সেনা এই বিশাল আকারে নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে এই বিশাল আকারে মহড়ার সিদ্ধান্ত নিল।
ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অনেক ধরেই ড্রাগনের দাদাগিরি শুরু হয়েছে। সেটা কিছুটা হলেও বাংলাদেশের জন্য। অরুণাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি অংশে চিনের কুনজর পড়েছে। অরুণাচলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ঘেঁষে একের পর এক গ্রাম তৈরির ছবি স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়েছে। লাল ফৌজের চোখে চোখ রাখতেই ভারতীয় সেনার এই মহড়া।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post