পিথাগোরাস কথাটা বলে গিয়েছিলেন বহু বছর আগে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার নিরিখে গ্রিক দার্শনিকের এই অমোঘ উক্তি ভীষণরকমভাবে প্রযোজ্য। ব্যক্তির অনিচ্ছায় একটি দেশকে কীভাবে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি। ক্ষমতার লোভ মানুষকে কতটা অসহিষ্ণু করে তোলে ইতিহাসে তার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। অনেকেই এই পরিস্থিতির জন্য বহিশক্তিকে দায়ী করেছে। সেটা যে একেবারে বেঠিক, তা বলা যাবে না। কিন্তু ব্যক্তিমানুষ কি কোনওভাবে এই দায় থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেন? দেশ পরিচালনার ভার যার হাতে হস্তান্তরিত হয়েছে, তাঁর থেকে তো মানুষ ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছিল। অনেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে পদ্মাপারে এক নতুন সূর্য উদিত হবে। পালাবদলের জন্ম তো প্রত্যাশার গর্ভে। কিন্তু আশার সেই ভ্রূণকে জঠরেই হত্যা করেছেন তদারকি সরকার প্রধান। তার জন্য তিনি বিন্দুমাত্র বিচালতি নন। অনুতপ্ততা বোধ নেই। আত্মশ্লাঘাহীন ব্যক্তি সময়ের হাত ধরে বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। নেতার জন্ম ক্ষমতার জঠরে। আবার ক্ষমতার জঠরেই তাঁর মৃত্যু। দেশের মাটির সঙ্গে যার নাড়ির টান নেই, তাঁর যে সে দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি বিন্দুমাত্র আন্তরিকতা থাকবে না, তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। আত্মবিশ্বাস ভুল পথে চালিত হয়ে চরমে পৌঁছালে ব্যর্থ বোধির জন্ম হয়। তদারকি সরকার সেই ব্যর্থ বোধি।
কিন্তু দেশের মানুষের প্রতি তাঁর যে টান রয়েছে, তিনি তো চুপ থাকতে পারেন না। তাই, তাঁকে মুখ খুলতেই হল। বাণী বন্দনার দিনটিকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। তিনি হাসিনা। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি মুখ খুললেন। প্রথমে ঠিক ছিল দিল্লিতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি আসবেন। কিন্তু বিশেষ কোনও কারণে তিনি আপাতত নিজেকে প্রকাশ করতে চাইলেন না। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘Save democracy in Bangladesh’. ২০২৪-য়ের অগাস্টে ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অডিও বক্তৃতা করেন। তবে ভারতে আয়োজিত কোনও কর্মসূচিতে এই প্রথম প্রকাশ্যে বাজানো হল হাসিনার অডিও ক্লিপ।
বাংলাদেশ নির্বাচন সামনেই। ১২ ফেব্রুয়ারি সেখানে ভোট। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না। এ অবস্থায় হাসিনার অডিও ক্লিপ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু কন্যার বক্তব্যের নিশানায় যে তদারকি সরকার প্রধান থাকবেন, তা নিয়ে কারও মনে তিলমাত্র সন্দেহ ছিল না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানকে তিনি কখনও ‘খুনি’, কখনও ‘ফ্যাসিবাদি’ কখনও ‘সুদখোর’ বলে আক্রমণ করেছেন। ক্ষমতালোভি বিশ্বাসঘাতক বলেও তাঁকে কটাক্ষ করেন। হাসিনার এই অডিও ক্লিপ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট। এটা দীর্ঘ অনুশীলনের বহিঃপ্রকাশ।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর মতে, ‘এক বিশাল কারাগার, এক মৃত্যুকুপ, এক মৃত্যুপুরী’। উগ্রপন্থী ও বিদেশি শক্তি, দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে হাসিনার অভিযোগ। হাসিনার কথায়, “The homeland won through the supreme Liberation War under the leadership of the Father of the Nation, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, is now ravaged by the monstrous onslaught of extremist communal forces and foreign perpetrators. Our once serene and fertile land has been reduced to a wounded, blood-soaked landscape. In truth, the entire country has become a vast prison, an execution ground, a valley of death. ”
মুহাম্মদ ইউনূসের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব গণাতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে’ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post