ভেবেছিল এক। হয়েছে ঠিক উল্টো।
কে, কী ভেবেছিল ?
ভেবেছিল ডিপ স্টেট। তাদের মনে হয়েছিল হাসিনাকে সরিয়ে ইউনূসকে ক্ষমতা বসালে তারা তাদের স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারবে। তাদের স্বার্থপূরণ তো পরের কথা, উল্টে বাংলাদেশ চলে গিয়েছে খাদের কিনারে। ডিপস্টেট এখন চাইছে যত তাড়াতাড়ি হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে পারে, ততই মঙ্গল। কারণ, আওয়ামী লীগের প্রতি যে জনসমর্থন রয়েছে, সেই সমর্থন আর অন্য কোনও দলের পিছনে নেই। গত ১৬ মাসে আন্তর্জাতিকমহল এটা বুঝে গিয়েছে যে নির্বাচন আওয়ামী লীগ ছাড়া হলে সেই সরকার বেশিদিন টিকবে না। তাই, সম্প্রতি আন্তর্জাতিকমহল আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আওয়ামী লীগ যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তার জন্য তদারকি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে। দেশের মোট জনসংখ্যা ৫১ শতাংশ মানুষের আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন রয়েছে। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে প্রথমে রয়েছে বিএনপি, তারপরে এনসিপি, জামায়েত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমহলের বিনিয়োগ রয়েছে। আর এই সব বিনিয়োগ হয়েছে হাসিনা আমলে। বিনিয়োগ করেছে চিন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন সহ অন্যান্য দেশ। তাই, তারা চাইবে বাংলাদেশে একটি স্থায়ী সরকার। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যে দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা কতদি ক্ষমতায় টিকে থাকবে, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। আর মিলিজুলি সরকার হলে তো অনেকে বলছে, সরকার যেদিন গঠন হবে, ঠিক তার পরের দিন সরকারের পতন হবে।
এই সব দল নিজেরাই এক কাদাছোঁড়াছুড়িতে ব্যস্ত। আসন বন্টন নিয়ে এক দলের শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে অপর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধ চরমে। বিএনপি-জামায়াতের কথাই ধরা যাক। জামায়াত চেষ্টা চালিয়েছিল যত বেশি আসন কেড়ে নেওয়া যায়। সেটা তারা পারেনি। বিএনপি যে কটা আসন তাদের জন্য ছাড়তে রাজি আছে বলে জানিয়েছে, তারা তাতেই সম্মতি দিয়েছে।
অপর দিকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছুই নেই। নৈরাজ্য বলতে যা বোঝায়। আইনের শাসন নেই। বিচারবিভাগ ভেঙে পড়েছে। সেনাবাহিনীর মনবল তলানিতে চলেছে গিয়েছে। বাহিনীর মধ্যেই এখন দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ফলে, আগামীদিনে বাহিনী যদি ইউনূসের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তারা দেশ শাসন করে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আন্তর্জাতিকমহল কিছুতেই চাইবে না বাংলাদেশ সেনা শাসনে চলে যাক। তাছাড়া এই সব দলে এমন কোনও নেতা নেই, যার দেশ শাসন করার মতো ক্ষমতা বা অভিজ্ঞতা রয়েছে। যা রয়েছে হাসিনার। দল পরিচালনা করতে গিয়েই তাদের ল্যাজেগোবরে অবস্থা। দেশ শাসন করতে গেলে তাদের কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ফলে বাংলাদেশে তৈরি হবে এক নতুন ধরনের নৈরাজ্য। হাসিনা আমলে যারা যে সব বহুজাতিক সংস্থা বিনিয়োগ করেছিল, তারা বাধ্য হবে লোটাকম্বল গুটিয়ে নিজের দেশে ফিরে যেতে। ফলে, বাংলাদেশ ডুবে যাবে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের ওপর কড়া নজর রেখেছিল ডিপ স্টেট। তারা বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশ খাদের কিনারা থেকে তুলে আনতে পারেন একমাত্র হাসিনা। তাই, হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আওয়ামী লীগ যতটা উদ্বিগ্ন, তার থেকেও বেশি উদ্বিগ্ন এই সব বহুজাতিক সংস্থা। সেনাবাহিনীও মনে প্রাণে চাইছে, দ্রুত নির্বাচন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post