গত ৪ ই ডিসেম্বর ভারত সফরে এসেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিয়ম ভেঙে তার বন্ধু পুতিনকে বিমানবন্দরে গিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ভারত – রাশিয়ার এই বন্ধুত্ব দেখে ঘুম উড়ে গেছিল বিশ্বের বহু দেশের। এই সফরে মোদী ও পুতিন তাদের এবং ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব প্রমান করে দিয়েছে। শক্তিশালী দেশ ভারতে এসেছিলেন আরও এক শক্তিশালী দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। ঠিক একই রকম কাকতালীয়ভাবে বর্তমানে ভারতে বসবাস করছেন আর এক দেশ তথা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশেরও এক সময় ভালো সম্পর্ক ছিল। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশে রূপপুরে একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী হয়েছে। অনেকেরই ধারণা পুতিন ও হাসিনার মাঝে ১৭ মিনিটের বৈঠক হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে যে ধরণের পোস্ট আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা করছেন তাতে মনে করা হচ্ছে পুতিন হয়ত হাসিনার সাথে বৈঠক করতে ভারতে এসেছিলেন। যা থেকে মনে করা হচ্ছে হাসিনার বাংলাদেশে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাটা নিশ্চিত। পুতিন হাসিনাকে আস্বস্ত করেছে বাংলাদেশে আবারও আগামীতে হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী হবেন। এ ধরণের নানান আলোচনার জন্ম হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন তা ইতিমধ্যে সকলেরই জানা। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে একটি দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী যিনি অন্য দেশের আশ্রয়ে রয়েছেন সেরকম একটি ব্যক্তির সাথে যত ভালোই সম্পর্ক থাকুক না কেন মহাশক্তিধর রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যে ধরণের ন্যারেটিভ আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা করছেন তাতে এরকমটা মনে হতে পারে যে পুতিন আর মোদী একসাথে হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসিয়ে দিয়ে যাবে।
কিন্তু এর পিছনে বাস্তবতাটা কী এত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকে পুতিন টা ভেঙে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবেন এটা আদেও যুক্তিসঙ্গত যারা ১৭ মিনিটের বৈঠকের কথা বলছেন এগুলো কী আদেও বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু না ধরণের কথা মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে আদতে লাভটা কাদের হচ্ছে এ ধরণের গুজব তৈরী করে আওয়ামীলীগের লাভটাই বা কী যদি এগুলি সত্যি হয় তাহলে অব্যশই তারা উপকৃত হবেন। বিষয়টা হতে পারে যে বহু আলোচনার মাঝে যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিষয়টি তুলে ধরেন তাহলেই আলোচনা হতে পারে। সেখানে পুতিন তার মতামত দিলেও দিতে পারেন। পুতিন যদি হাসিনার সাথে বৈঠক করতেনই তাহলে কখনই হাসিনা বলতেন না যে তিনি বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন চান।












Discussion about this post