ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহযুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। মূলত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা এনসিপি, বিএনপি এবং জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ এই অভিযোগ তুলছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির যুক্তি, গত ডিসেম্বরে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের জনগনের সঙ্গে। বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়। বিক্রম মিশ্রির এই মন্তব্যকেই উদ্ধৃত করেই জামাত বা এনসিপি নেতারা দাবি করছেন, বাংলাদেশে ঘটা হিংসাত্মক ঘটনাগুলির পিছনে ভারতের উস্কানি রয়েছে। সেবার বিক্রম মিশ্রি এমন কথাও বলেছিলেন যে শেখ হাসিনার সব কথার অনুমোদন করে না ভারত। কিন্তু, বাংলাদেশের হাসিনাবিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দাবি করছেন, ভারতের মাটিতে বসেই সন্ত্রাসের বীজ বপন করে চলেছেন শেখ হাসিনা। এমনকি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ভারতকে যে অনুরোধ করেছিলেন তারও মান্যতা দেওয়া হচ্ছেনা বলে বিএনপি ও জামাতের অভিযোগ। তৌহিদ হোসেন ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন যে শেখ হাসিনা যেন কোনও রাজনৈতিক বিবৃতি না দেয়। বিএনপি, জামাত ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হোতাদের অভিযোগ, ভারতে বসেই হাসিনা নাকি সহিংস আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগ এবং ছাত্র লিগের কর্মী সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, ঝটিকা মিছিল করছেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে না থাকলেও তাঁর ভূত যে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, দেশ ছাড়া হাসিনার যদি এই প্রভাব হয় তাহলে হাসিনা দেশে ফিরলে কি অবস্থা হবে? এই কারণেই প্রমাদ গুনছে এনসিপি, বিএনপি ও জামাত নেতৃত্ব। হাসিনার সাম্প্রতিক একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারকে উদ্ধৃত করে হাসিনা বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন যে বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন হাসিনা, এবং তা করছেন ভারতের মদতেই। বাংলাদেশের তদারকি সরকার আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগের এই ঝটিকা আন্দোলন প্রসঙ্গে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়াতেও বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাসিনা বিরোধীরা। যা কিছু প্রতিরোধ হচ্ছে তা করেছে বিএনপি, জামাত ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা। এই বিষয়ে তাঁরা মুহাম্মদ ইউনূসকেই কাঠগড়ায় তুলছেন। জাতিসংঘে ইউনুস সোমবার ভাষণ দিয়েছেন যে তিনি ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন করাতে চান। এখানেও জামাত-এনসিপি নেতাদের ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তলায় তলায় ভারত এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগ রাখছেন না তো মুহাম্মদ ইউনুস! কারণ ভারতও বারবার দ্রুত নির্বাচন করানোর দাবি জানিয়ে আসছে। যা একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না জামাতের নেতারা।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার শুনানি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১৪০০ বাংলাদেশিকে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে গৃহহীন করার অভিযোগে মানবতাবিরোধী মামলার শুনানি শেষ হবে অক্টোবরের মধ্যেই। হাসিনা বিদেশে থাকায় তাঁর পক্ষে কোনও সাক্ষ্য জমা পড়েনি। শুনানির পর এই মামলার রায় বেরোতে আরও পনেরো দিন থেকে তিনমাস। হাসিনা বিরোধীরা ভোটের আগে এই রায় শুনতে চায়। হাসিনার ছায়া দীর্ঘতর হোক তারা তা চায় না।












Discussion about this post