১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করার তারিখ জানানোর কথা ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের। এই মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এদিকে এই বিচারের ন্যায্যতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবী ও বিচার মহল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি। অন্যদিকে আওয়ামী লিগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রসংঘে দায়ের করা হল জরুরি আপিল। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক বিশেষ দূতের কাছে এ আপিল আবেদনটি জমা দিয়েছেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন পাওলস ও তাতিয়ান ইটওয়েল। এই জরুরি আপিলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওই আপিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত বিচারে ন্যায়বিচারের অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন লন্ডনের বিখ্যাত ল ফার্মের দুই আইনজীবী।
তাঁরা জাতিসংঘের কাছে আপিলে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ২০০৯ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তাঁর দল নির্বাচনে জিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসে। শেখ হাসিনাই ফের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। গত বছর সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এক মামুলি বিক্ষোভ ক্রমে গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। ২০২৪ সালেরই ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সহিংস ওই আন্দোলনের জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এবং ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। তারপর থেকেই এই সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে। ২২০২৫-এর জুলাই শেখ হাসিনা এবং আরও দুইজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইটিসি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার বিচার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই রায় ঘোষণার কথা এবং ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এই জরুরি আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে হাসিনা পরবর্তী সময়ে আন্দোলন সমর্থকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর প্রতিশোধমূলক হামলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, আইসিটি শুধুমাত্র শেখ হাসিনার সরকারের সদস্যদেরই বিচারের আওতায় এনেছে। ওই আপিলে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিল—’যারা এই আন্দোলন সফল করেছে তারা ১৫ জুলাই থেকে ৮ অগস্ট পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনও বিচারের মুখোমুখি হবে না। আওয়ামী লীগের পক্ষে লন্ডনের ওই ল ফার্ম আরও দাবি করেছে, এই বিচার একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে একটি অনির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক বৈধতা-বিহীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। যা ন্যায়বিচারের অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগ তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের ১৪(১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল’-এর মাধ্যমে বিচার করা হয়নি শেখ হাসিনা-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের। আবার এও বলা হয়েছে, প্রধান প্রসিকিউটরের নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। কারণ তিনি প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। আবার এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি। এমনকি আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্ত বা তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা হামলার শিকার হয়েছেন বারংবার। ফলে আইনজীবীরা নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। বাংলাদেশের আইনজ্ঞ মহলের বক্তব্য, একেবারে সঠিক সময় আওয়ামী লীগ জাতিসংঘে এই বিষয়টি উত্থাপন করে বড় চাল দিল। ফলে আগামীদিনে মুখ পুড়তে পারে ইউনূস সরকারের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post