হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা যখন দিল্লির ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে, দিচ্ছে হুমকি-ধমকি, সেই সময় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এক চালে বাংলাদেশ রীতিমতো চাপে পড়ে গিয়েছে। সে রাজ্যে বসবাসকারী পাঁচ বাংলাদেশিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা যদি সসম্মানে বাংলাদেশে ফিরে না যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। এই আইন তৈরি হয়েছিল নেহরুর আমলে। সেই সময় অসমের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন গোপীনাথ বরদলুই। তিনি এই আইন কার্যকর করার উদ্যোগ সেই সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু নেহরু তাঁকে বাধা দেন।
এই আইনে কী বলা হয়েছে একবার দেখে নেওয়া যাক। এই আইন কেন্দ্রীয় সরকার অসম সরকারকে বিশেষ আইনি অধিকার দিয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, অসম সরকার যদি মনে করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী/অনুপ্রবেশকারীরা জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি হয়ে পড়ছে, তাহলে তাদের গ্রেফতার করে সে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারে। তারা পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেবে যাতে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী/অনুপ্রবেশকারীদের সে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার, যে দেশ থেকে তারা এসেছিল।
প্রশ্ন উঠছে, সব অনুপ্রবেশকারীকে কি তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে? আইনে কিন্তু বলা হয়েছে, সেই সব অনুপ্রবেশকারীকে/ অনুপ্রবেশকারীদের তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে যাদেরকে রাজ্য সরকার মনে করবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি রয়েছে। এই আইন কি অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশেষ করে দেশজুড়ে যখন চলছে সার (স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন)? কেন্দ্রের তরফ থেকে শুধুমাত্র অসমকে দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ আইনি অধিকার। আইনে বলা হয়েছে, এরা নিজেদের পছন্দমতো রাস্তা দিয়ে যেতে পারবে না। রাজ্য সরকার নির্ধারিত পথ দিয়েই তাদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে।
এই আইনে বলা হয়েছে, যদি দেখা যায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে এসেছেন বা সামাজিক দাঙ্গার জন্য অসমে আশ্রয় নিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অসম সরকার চাপ দেবে না। রাজ্য সরকার যদি মনে করে সংশ্লিষ্টের সে রাজ্য থাকা জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি, এমনকী রাজ্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বলা হবে। ২৪ ঘণ্টা মানে ২৪ ঘণ্টাই। তার থেকে দেরি হলে অসম সরকার সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে সরাসরি জেলে পাঠিয়ে দেবে।
এই পাঁচজনকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বিদেশি ঘোষণা করে দেয়। তাই, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশের ক্ষেত্রে রাজ্যের আদালতের সমনের প্রয়োজন নেই। এমনকী রাজ্য সরকারের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও দরকার পড়ে না। এমনকী এই আইনে কূটনৈতিক সংলাপেরও প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ রাজ্য সরকার কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগে বাধ্য নয়। ২০২৫ –য়ে সুপ্রিম কোর্ট নাগরিক আইন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজ্যে কে বা কারা দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হয়ে গিয়েছে সেটা নির্ধারণ করবে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। রাজ্য সরকার এই পাঁচ বাংলাদেশির বিষয়ে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায় যায় রাজ্য সরকারের পক্ষে। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে অসম সরকার তৈরি করে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর)। এবার ওই পাঁচ বাংলাদেশির তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post