ভারতের তরফে সরকারি শীলমহর,আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করা দেশের জন্য উদ্বেগজনক! বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই ভারতের ভূমিকা নিয়ে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন, শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে এবার সমস্ত জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে ভারতের স্পষ্ট বার্তা, বিনা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করা উদ্বেগ জনক। তবে কি এবার মোদি-হাসিনা জোট প্রকাশ্যে?
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বর্তমান ইউনূস সরকারের একাধিক কাজ কর্ম নিয়ে এর আগে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। এবার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা নিয়ে করা প্রতিক্রিয়া দিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়েছে এভাবে আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উদ্বেগজনক, ভারতের স্পষ্ট বার্তা বিনাপ্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রবিরোধী।
উল্লেখ্য, তৎপরতার সঙ্গে সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়নে ভারত মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ ভারত জানায়,কোনও আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী।
ভারতের তরফে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট বলেন, “বিনা প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ উদ্বেগজনক। একটি গণতন্ত্র হিসেবে, ভারত স্বাভাবিকভাবেই গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা খর্ব এবং রাজনৈতিক স্থান সংকুচিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন। আমরা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের দ্রুত আয়োজনের প্রতি জোরালো সমর্থন জানাই।”
উল্লেখ্য,৭ মে পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান, অপারেশন সিঁদুর সফলভাবে পরিচালনার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই প্রথম ভারতের কড়া মন্তব্য।
সোমবার, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, নতুন সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০২৫ এর অধীনে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী দলগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অফ বাংলাদেশ এ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিচার সম্পন্ন না করা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এই ক্ষমতা সংশোধিত আইনের ১৮ ধারা থেকে উদ্ভূত, যা ২০০৯ সালের মূল আইন সংস্করণে অনুপস্থিত ছিল। প্রাক্তন ক্ষমতাসীন দলের উপর আরও একটি আঘাত হিসেবে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার ফলে ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এটিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বাংলাদেশ সরকারের তরফে । এরপরই সরগরম পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে আওয়ামী লীগ ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ জানানো হয়েছে, “আমরা ইউনূস সরকারের এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি। আওয়ামী লীগভবিষ্যতে তার নির্ধারিত পথে কাজ চালিয়ে যাবে।” দলের তরফে আরও জানানো হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাস মূল্যয়নের পরিপন্থী।












Discussion about this post