আরও কঠোর ভারত সরকার। ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে, সিন্ধুর জলের অভাবে মারছে পাকিস্তানকে, কিন্তু এবার ভারতের আরও এক নিশানা বাংলাদেশকে কি মারতে চলেছে গঙ্গার জলের অভাবে? অর্থাৎ ভারতের দিকে হাত বাড়ালে তার পরিণতি যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা হয়তো বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের পরিস্থিতি দেখলেই উপলব্ধি করা করা যাবে।
চলতি বছরে পাকিস্তানের মদতে ভারতের কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর, পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে ১৯৬০ সাল থেকে চলমান সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত সরকার। ভারতের সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি যে কতটা ভয়ংকর হতে চলেছে তা হয়তো হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশকে বলা হয় শস্য ভান্ডার। এই পঞ্জবপ্রদেশে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কৃষি পণ্য সরবরাহ হয় গোটা পাকিস্তানে। আর এই শস্য ভান্ডার কে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে সিন্ধুর জল বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সহায়ক সিন্ধুর জল। সেই সিন্ধুর জল চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত ফোনে আগামী ১ বা ২ বছর যদি এই চুক্তি স্থগিত থাকে তবে পাকিস্তান যে চরম বিপদে পড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই ভারত পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে যখন জল্পনা তৈরি হচ্ছে তখন আরও একটি দেশের নাম সামনে আসছে। সেটি হল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া গঙ্গার জল চুক্তি প্রায় শেষ পর্যায় এসে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর নয়াদিল্লি চাইছে গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নতুন করে সম্পাদন করতে। ফলে ঢাকাকে চাপ দেওয়া শুরু করেছে নয়া দিল্লি।জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নদীবন্দর ব্যবস্থাপনার মতো নানা কারণে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের জলের চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, পূর্ববর্তী চুক্তির আওতায় নির্ধারিত জল সরবরাহ ভারতের প্রয়োজন পূরণ করতে পারছে না।
উল্লেখ্য ভারত যে নতুন চুক্তি সম্পাদন করতে চাইছে তার মাধ্যমে প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তারা ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে আরও অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কিউসেক জল নিতে চায়। তাদের দাবি, বর্তমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এই বাড়তি জল প্রয়োজন।
যেহেতু ফারাক্কা বাঁধ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় অবস্থিত হওয়ায় সেহেতু এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন চুক্তির পক্ষে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একমত বলে সূত্রের খবর । তাদের মতে, এখন যে পরিমাণ জল দরকার, তা বর্তমান চুক্তির আওতায় পাওয়া সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা জল বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে চুক্তিটি কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জল প্রবাহ দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি হবে নির্দিষ্ট সূত্রে।বিশেষ করে প্রতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস সময়ে দুই দেশ পর্যায়ক্রমে প্রতি ১০ দিন অন্তর অন্তর ৩৫ হাজার কিউসেক জল পেয়ে থাকে। তবে ভারত এখন এই সময়কালেই তাদের প্রাপ্যতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার দাবিতে এই নয়া চুক্তি সম্পাদন করতে উদ্যত।
ভারতের এই পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে উত্তর ভারতের কৃষি অঞ্চলে জলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৩ সালে ভারতীয় কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একটি রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর রাজ্যগুলোতে জলের চাহিদা গত ১০ বছরে প্রায় ২০% বেড়েছে। এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও ভারত সাম্প্রতিককালে জল কৌশলগতভাবে একটি ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার দিকে ঝুঁকছে, যা সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের পরে স্পষ্ট হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে সংঘাতের পর গ্রহণ করা হয়েছে। আর এবার বাংলাদেশের গঙ্গাজল চুক্তি কে নিশানা করে আরও এক নয়া সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার।












Discussion about this post