IN উপলক্ষ্য সাংঘাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে যোগ দেওয়া। কিন্তু ভারতের লক্ষ্য ছিল অন্য। চিনের কিংদাও শহরে বসেছে সাংঘাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের বা এসসিও সমাবেশ। এখানে ভারত, চিন, রাশিয়া ছাড়াও পাকিস্তান-সহ আরও কয়েকটি সদস্য দেশ আছে। এই জোট মূলত সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার জন্য। ফলে অপারেশন সিঁদুরের পর এসসিও সম্মেলন এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, এতে দুই সদস্য দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছিল। আর একটি দেশ মদতদাতা হিসেবে পিছন থেকে একটি দেশকে সমর্থন করে গিয়েছে বলে অভিযোগ। মূলত পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর সরাসরি পাকিস্তানকে দুষে সে দেশের ৯টি সন্ত্রাসী ঠিকানায় হামলা চালায় ভারত। তারপর পাকিস্তান ভারতে আক্রমণ করার চেষ্টা করলে পাল্টা আঘাত হানে ভারতও। চার দিনের এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের প্রায় ২০টি স্থানে ভারত তীব্র আঘাত হেনেছে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও পাকিস্তানের সামরিক ও বিমানঘাঁটি। কয়েকটি মহলের দাবি, ভারতীয় আক্রমণে পাকিস্তানের পরমাণু ঘাঁটি ও পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস হয়েছে। যদিও এটা কোনও পক্ষই স্বীকার করেনি। অপরদিকে পাকিস্তান চিন থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ সমরাস্ত্র ও তাঁদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনে। চিন থেকে কেনা পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স ও রাডার সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনা। ফলে চিনা অস্ত্র পুরোপুরি ব্যর্থ সেটা প্রমাণিত। এতে নাক কেটেছে বেজিংয়ের। সেই দিক থেকে এবারের এসসিও সামিট ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতও পুরোপুরি তৈরি হয়ে গিয়েছিলো চিনে। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। তিনিই গিয়েছিলেন, তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালরর উপস্থিতি। যা কূটনৈতিক মহলের কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।
এসসিও সম্মেলনের ঠিক আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে। ওয়ান-টু-ওয়ান ওই বৈঠক নিয়েই এখন চর্চা চলছে। কারণ ওই বৈঠকের পরই চিন পাকিস্তানের প্রতি উল্টো সুর গাইতে শুরু করেছে। যে চিন পাকিস্তানকে তাঁদের পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৫ দেওয়ার কথা বলছিল, এখন তা দিতে অস্বীকার করছে বেজিং। এমনকি আরও আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও পাকিস্তানকে দিতে নারাজ বেজিং। মনে করা হচ্ছে অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পরই চিনের এই ভোলবদল। পাশাপাশি ভারত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তাঁদের বর্তমান অবস্থান ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমান দিয়েছে বেজিংকে। সেই সঙ্গে চিনের প্রতিও কিছু কড়া বার্তা দিয়েছে নয়া দিল্লি। ফলে প্রবল চাপে পড়েছে চিন। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে চিন একটু চাপেই আছে বাণিজ্যক দৃষ্টিকোন থেকে। কারণ চিনা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাকিস্তানে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনের অস্ত্র বিক্রি ধাক্কা খাচ্ছে। অনেক দেশই এখন ভারতের দিকে ঝুঁকছে। যেমন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম ভারত থেকে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে আগ্রহী। যা চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে বাধ্য করছে।
এবার আসি এসসিও বৈঠকের প্রসঙ্গে। ভারত কার্যত চিনের ঘরে গিয়েই চিনকে শাসিয়ে এল। গত বৃহস্পতিবার সম্মেলন চলাকালীনই চিন-পাকিস্তানের ‘গোপন’ জুটিকে কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। পাশাপাশি সম্মেলনের শেষে পেশ হওয়া যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরও করেননি তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিবৃতিতে বালোচিস্তানকে জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কেন ঠাঁই নেই পহেলগাঁওয়ের? ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, চিন ও পাকিস্তানের স্বার্থই দেখা হয়েছিল ওই যৌথ বিবৃতিতে। পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছিল, বালুচিস্তানে চলা স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনের নেপথ্যে ভারতের যোগ রয়য়েছে। তাই চিনের প্রত্যক্ষ মদতে পাকিস্তান যৌখ বিবৃতিতে বালুচিস্তানকে জায়গা করে দিয়েছে। কিন্তু পহেলগাঁও কাণ্ডের উল্লেখ পর্যন্ত নেই। তাই রাজনাথ সিং সেখানে সই করতে আপত্তি করেন এবং অস্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যই এসসিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনাথজি যখন এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এবং চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন একটি দেশ সেখানে সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি উল্লেখ করতে অস্বীকার করে। সন্ত্রাসবাদের উল্লেখ ছাড়া ভারতের কাছে এই ঘোষণাপত্রটির কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। প্রসঙ্গত, এসসিও সর্বসম্মতিতে কাজ করে। কোনও বিষয় নিয়ে যদি একটি দেশেরও আপত্তি থাকে, তাহলে কিছুই এগোয় না। তাই রাজনাথজি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদকে স্বীকৃতি না দিলে ভারত এই ঘোষণাপত্র সই করবে না। পাশাপাশি তিনি চিনের মাটিতে দাঁড়িয়েই কার্যত চিনকে বার্তা দিয়েছেন। রাজনাথ সিং ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই তাঁর ভাষণে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারতও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। কারণ এটাই আমাদের অধিকার। আমরা তাদের বুঝিয়ে দিয়েছি, সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র এখন আর নিরাপদ নয়। এটা কার্যত চিনের জন্যও পরোক্ষ বার্তা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post