বাংলাদেশ ক্রমশ জঙ্গিরাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে। পদ্মাপাড়ে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার শতাধিক জঙ্গি ও জিহাদিকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে স্বীকৃত বেশ কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গিনেতাকেও সব ধরণের দায়মুক্তি দিয়ে জেল থেকে ছেড়েছে ইউনূস সরকার। আর শেখ হাসিনার পতনের পর চূরান্ত অরাজকতা চলাকালীন বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেল ভেঙে পালিয়েছিল হাজারখানেক জঙ্গি ও মারাত্মক অপরাধীরা। জানা যায় প্রায় ২২০০ অপরাধী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী জেল থেকে পালিয়েছিল। যাদের মধ্যে এখনও প্রায় ৭০০ জন জেলের বাইরে। তাঁদের পুনরায় ধরার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছে না ইউনূসের পুলিশ। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও কার্যত নিষ্কৃয়। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছে। একেরপর এক মন্দির ভাঙা হচ্ছে। যেমন সম্প্রতি ঢাকার এক দূর্গমন্দির ভেঙে দিল খোদ প্রশাসন। বিশ্লেষকদের অভিমত, বাংলাদেশ ক্রমশই জঙ্গি ও জিহাদিদের কব্জায় চলে যাচ্ছে। আর তা হতে দিচ্ছেন স্বয়ং মুহাম্মদ ইউনূস।
আন্তর্জাতিকভাবেও এবার তা প্রমানিত হতে শুরু করেছে। যেমন সম্প্রতি ‘উগ্র জঙ্গি আন্দোলনের’ সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৬ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। শুক্রবার মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ধৃত ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনকে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৬এ অনুচ্ছেদের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রপন্থার মতো অপরাধের জন্য এ আইন প্রযোজ্য। মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া বাকি ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জনকে মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্ত চলছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বিস্ফোরক দাবি, মালয়েশিয়ায় আটক ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বা ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত। যারা দেশে বৈধ ও নির্বাচিত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। যত দিন যাচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের মুখোশ খুলে পড়ছে। এতদিন ভারতের তরফেই বাংলাদেশের এই উগ্র মৌলবাদী পরিবর্তন নিয়ে সরব হয়েছিল। নয়া দিল্লি বরাবরই ঢাকাকে সাবধান করে এসেছে জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেওয়া নিয়ে। কিন্তু ইউনূসের সরকার তা কানে তোলেনি। এবার মালয়েশিয়ার মতো দেশ থেকেও বাংলাদেশি জঙ্গি গ্রেফতার হচ্ছে। কয়েকদিন আগে যে মালয়েশিয়ার কাছে আসিয়ান জোটে সদস্য করার জন্য আবদার করেছিল মুহাম্মদ ইউনূস।
ভারত বারবার ইউনূস প্রশাসনকে সতর্ক করার পরও ঢাকার এক দূর্গামন্দিরে হামলা হল। এবার খোদ পুলিশ ও সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থেকে রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেতে একটি অস্থায়ী দুর্গা মন্দির ভেঙে দিয়েছে। যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল নয়া দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘ঢাকার খিলক্ষেতে দুর্গা মন্দিরটি ভাঙার দাবি তুলেছিল মৌলবাদীরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মন্দিরটিকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে এই ঘটনাটিকে জমির অবৈধ ব্যবহার হিসেবে তুলে ধরে মন্দিরটি ধ্বংসের অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু এবং সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি রক্ষা করাটা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে বাংলাদেশ সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। এই ঘটনার ঠিক পরেই বাংলাদেশের জন্য আরও একটা বড় ধাক্কা দিল ভারত। চাপানো হল বড় নিষেধাজ্ঞা। বাংলাদেশের স্থলবন্দর দিয়ে ৯ পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার। শুক্রবারই বৈদেশিক বাণিজ্য দফতর বা ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করেছে। এখন থেকে কাঁচা পাট, পাটের রোল, পাটের সুতো, বোনা ফ্লেক্স কাপড় ও বিশেষ ধরনের কাপড় সহ ৯ ধরনের পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আর ভারতে ঢুকতে পারবে না। কেবল মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বইয়ে নবসেবা সমুদ্রবন্দর দিয়ে এই ধরনের পণ্য প্রবেশের অনুমতি মিলবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে অনেকটা ঘুরে ভারতে পাঠাতে হবে। যা সময় ও খরচ সাপেক্ষ। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিপুল রাজস্ব আয় হত এই পণ্যগুলি রফতানি করে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ১ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকার এই ৯ পণ্য রফতানি হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশই স্থলবন্দর দিয়ে হয়েছিল। এর আগে, গত ১৭ মে বাংলাদেশ থেকে রেডিমেড পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোল্ড ড্রিঙ্কস, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাবপত্র, সুতো, সুতো দিয়ে তৈরি জিনিস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার আগে ৯ এপ্রিল ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারত। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশ নিয়ে অনেকটা পাকিস্তানের মতোই এগোচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রথমে সতর্ক করা। তাতেও কাজ না হলে বাণিজ্যে ধাক্কা। সব শেষে অপারেশন সিঁদূর। জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত হওয়া বাংলাদেশেও এবার অপারেশন সিঁদুর? উত্তর আপাতত কালের গর্ভেই রয়েছে।












Discussion about this post