হুঁশ ফেরেনি পাকিস্তানের। সদ্যই অপারেশন সিঁদুরে জোরালো থাপ্পড় খেয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। এর পরেও ক্রমাগত উসকানি দিয়ে চলেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। যিনি আবার যুদ্ধে হেরে নিজেকেই ফিল্ড মার্শাল ঘোষণা করেছেন। এবারও তাঁর মুখে সেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ। সবমিলিয়ে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নয়া দিল্লি। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। চার দিনের সেই সংঘাতে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি-সহ পাক আর্মির বেশ কয়েকটি সামরিক ও বিমানঘাঁটিতে জোরালো আক্রমণ শানিয়েছিল ভারত। তাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এই সবের উপগৃহ চিত্র-সহ একাধিক প্রমাণও দেখিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ পুড়েছিল ইসলামাবাদের। কিন্তু দেশটার নাম পাকিস্তান, যাদের লাজ-লজ্জা বলে কিছুই নেই। তাই একটা যুদ্ধে হারার পরও মিথ্যা দাবি করতে শুরু করেছিল পাক নেতারা। যদিও প্রমানের জেরে তাঁদের দাবি নস্যাৎ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রহস্যজনকভাবে আসরে নামেন। তিনি একাধিকবার দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তিনিই করিয়েছেন। সেটা ভারত যেমন অস্বীকার করেছে, তেমনই পাকিস্তানের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও স্বীকার করেছে যে তাঁরাই বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতকে। সবমিলিয়ে অপারেশন সিঁদূর পাকিস্তানের হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে এ কথা বলাই যেত, কিন্তু পাক সেনাপ্রধান এখনও তা মানতে নারাজ। ফের একবার কাশ্মীরের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে সরাসরি সমর্থনের বার্তা দিতে পাক সেনাপ্রধানকে বলতে শোনা গেল, ‘ভারত ওদের জঙ্গি বললেও আসলে ওরা নিজেদের বৈধ লড়াই লড়ছে। আর এই লড়াইয়ে পাকিস্তান ওদের পাশে রয়েছে’। যা নিয়ে ফের একবার ভারত-পাক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
এই আশঙ্কা কোনও ভাবেই দূরে ঠেলে দেওয়া যাচ্ছে না। এর কয়েকটি কারণও রয়েছে। গত এপ্রিলে যখন পহেলগাঁও হামলা হয়েছিল তাঁর ঠিক আগেই পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির একটি মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দ্বিজাতি তত্ত্ব সামনে এনে দাবি করেছিলেন কাশ্মীর হল পাকিস্তানের ঘাড়ের শিরা। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই পহেলগাঁও হামলা হয়। এবারও ফের জেনারেল আসিম মুনির কাশ্মীর নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলেন। আর কাশ্মীরে শুরু হয়েছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান অমরনাথ যাত্রা। যা হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আরও একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যদিও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং কাশ্মীর পুলিশ, বিএসফ অমরনাথ যাত্রা নিয়ে অতি সতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রীয় এবং জম্মু-কাশ্মীর সরকারের তরফেও কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছে পাক সেনাপ্রধানের হুমকি। দিন কয়েক আগেই পাকিস্তানের নেভাল অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠান উপলক্ষে সম্প্রতি করাচিতে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেনারেল আসিম মুনির বলেন, “ভারত যাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে রাষ্ট্রসংঘের নীতি অনুযায়ী এটা ওদের বৈধ লড়াই। ওখানে কাশ্মীরের মানুষকে দমন করার চেষ্টা চলছে“। তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব ও কাশ্মীরিদের দাবি অনুযায়ী কাশ্মীর সমস্যার ন্যায্য সমাধানের জন্য পাকিস্তান চিরকাল আওয়াজ তুলবে”। এখানেই না থেকে মুনির আরও জানান, “কাশ্মীর আমাদের গলার শিরা ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা কখনও কাশ্মীরকে ভুলব না”। অর্থাৎ পাক সেনাপ্রধানের স্পষ্ট বার্তা, কাশ্মীরের মাটিতে যে জঙ্গি সংগঠনগুলি হত্যালীলা চালাচ্ছে তাদের সরাসরি সমর্থন যোগাবে পাকিস্তান।
পাক সেনাপ্রধানের এহেন সমর্থন এবং আশ্বাসবানী কাশ্মীরের মাটিতে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের সাহস জোগাবে। যা চিন্তার কারণ ভারতীয় গোয়েন্দারাদের কাছে। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুর ঘোষণা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এবার থেকে ভারতের মাটিতে যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলাকেই ভারত যুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখবে। এটাই এখন ভারতের নীতি, একাধিকবার স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই বিষয়টি বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানকে জানিয়ে এসেছেন। ফলে পাক সেনাপ্রধানের উস্কানিতে যদি ভারতে ফের কোনও সন্ত্রাসী হামলা হয়, এবার ভারত আরও বড় পদক্ষেপ করবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মে মাসে অপারেশন সিঁদূরের সময় কেবলমাত্র ভারতের বিমানবাহিনী সামরিক অভিযানে ছিল। ভারতের নৌবাহিনী কোনও পদক্ষেপ করেনি। এবার পাকিস্তান উল্টো-সিধা কিছু করলেই বিমান ও নৌবাহিনী একসাথে অংশ নেবে অপারেশন সিঁদুরের দ্বিতীয় পর্যায়ে। যা পাকিস্তানের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক হবে না।












Discussion about this post