পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন গলায় গলায়। ইসালমাবাদের সঙ্গে ঢাকার বন্ধুত্ব এখন চরমে। ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বড়ো রকমের রদবদল ঘটেছে। চিকেন নেক নিয়ে ভারত –বিরোধী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে তারা। দুই দেশের সামরিক কর্তাদের দহরম মহরমে উদ্বিগ্ন সাউথব্লক এবং সেনাভবন। শিলিগুড়ি করিডর ব্যবহার করে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালানোর ছক কষছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের জঙ্গিদের আনাগোনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে ভারত সীমান্ত এলাকাগুলিতে। হাওয়ার গতি একেবারেই ভালো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
তাই, আগে থেকে সাউথব্লক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিল। শিলিগুড়ি করিডরকে সুরক্ষিত রাখতে ও ভারত বিরোধী কার্যকলাপকে রুখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি। তিন জায়গায় বসানো হল স্থায়ী সেনা ব্যারাক। জায়গাগুলি হল বামুনি (ধুবরির কাছে), বিহারের কিষাণগঞ্জ ও উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া। সূত্রের খবর, নতুন এই তিন সেনাঘাঁটিতে সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রস্তুতি বৃদ্ধির বৃহত্তম পরিকল্পনায় অংশ, যেখানে গোয়েন্দা নজরদারি, রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। গোটা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস সম্প্রতি পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল শাহির সামসাদ মির্জার সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রটি বলছে, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক খাতে চুক্তি হয়েছে। ইসলামাবাদ ঢাকাকে কথা দিয়েছে, তারা তাদের (ইসলামাবাদ) যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে। গত বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কম্যান্ডের কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়াড়ি অসমের ধুবড়িতে একটি নতুন সেনাঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই সেনাঘাঁটি হবে বামুনিতে। আগে এই অঞ্চলটি ছিল অবৈধ দখলদারের হাতে। ভারতীয় সেনা সেই জমি পুনরুদ্ধার করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম রাওয়াত জানিয়েছে, নতুন এই সেনাছাউনি থাকবে তেজপুরের জিওসি ফোর কর্পসের অধীনে। সরকারি কর্তাদের মতে, বাংলাদেশের তদারকি সরকারের আমলে ভারতের ক্ষেত্রে সে দেশের বিদেশ নীতিতে ব্যাপক রদবদল ঘটেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের গড়ে ওঠা সখ্যকে সেনাভবন এবং সাউথব্লক একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না। দুই দেশের সেনাকর্তাদের ঘনঘন সফরে রীতিমতো উদ্বিগ্ন ১৭ নম্বর আকবর রোডের বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি ভারতের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসকে একটু বুঝে-শুনে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। মুখে সতর্ক করার পাশাপাশি কাজেও সাউথব্লক সতর্ক থাকতে চাইছে। সেই সতর্কতার অঙ্গ হিসেবে সাউথ ব্লক দেশের পূর্ব সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করল। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে দিল বার্তা। সেই বার্তা হল, ভুলেও তারা ভারতের ওপর চড়াও হলে ভারত সমুচিত জবাব দেবে। সেই জবাব এতটাই কড়া হবে যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার সম্ভাবনাকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সেনাভবনের সরকারি কর্তারা বলছেন, পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করার পরিকল্পনা দিল্লির ছিল না। এই পথে যেতে তাদের বাধ্য করেছে যমুনাভবনের বাসিন্দা। তিনি হঠাৎ করে পাকিস্তানের ‘চরণামৃত’ পানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটাই দিল্লির মেজাজ বিগড়ে দিয়েছে। তাই, পূর্ব সীমান্তে সেবাহিনীর এই অতিসক্রিয়তা। জানা গিয়েছে, খুবই কম সময়ের মধ্যে ভারতীয় সেনা সীমান্তের এই তিন জায়গায় নতুন তিনটি সেনাঘাঁটি তৈরি করেছে। তাদের এই পদক্ষেপে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়াড়ি রীতিমত কৃতজ্ঞ। সেটা তিনি বাহিনীর সদস্যদের নির্দিধায় জানিয়ে দিয়েছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post