অবশেষে চাপের মুখে নতীস্বীকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের? মাস দুয়েকের বেশি সময় ধরে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ হুমকির মুখে নতীস্বীকার করেছে বিশ্বের তাবড় সব দেশ, সেখানে ভরত ক্রমাগত দর কষাকষি করে চলেছে। এখানেই শেষ নয়, গত মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর জন্য তাঁর ভূমিকার কথা ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ক্রমাগত বলে চলেছেন, ভারতও সরাসরি তা নাকচ করে যাচ্ছে। এতে বিশ্বের সর্বোচ্চ শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের দিক থেকে ক্রমাগত চাপের মুখে কিছুটা নরম হয়েছে ওয়াশিংটন। এবার বাণিজ্য চুক্তির আগে, তাই ওয়াশিংটন ভারতের সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সেরে নিতে চলেছে। যা একদিক থেকে যেমন ঐতিহাসিক, অন্যদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, ভারত ও আমেরিকা আগামী ১০ বছরের জন্য একটি কৌশলী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং আমেরিকান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। সেখানেই প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের আগামী দশ বছরে সহযোগিতার সম্মতির কথা হয়। যা নিয়ে বুধবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পেন্টাগন। তাতে বলা হয়, ভারত ও আমেরিকা, উভয় পক্ষই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, “পিটার হেগসেথ বলেছেন যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার বলেই মনে করে আমেরিকা”। যদিও বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং যান ভারতকে দিতে দেরি করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেমন, পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাস আগেই ‘অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যা চলতি মাসের মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর এভিয়েশন কর্পসের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪-এর মার্চে রাজস্থানের যোধপুরে প্রথম অ্যাপাচি স্কোয়াড্রন তৈরি করেছিল আর্মি এভিয়েশন কর্পস। কিন্তু ৬০ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি অনুযায়ী তিনটি করে দুই দফায় মোট ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাওয়ার কথা ভারতীয় সেনাবাহিনীর। কিন্তু তা এখনও এসে পৌঁছয়নি। এটা নিয়ে ভারত উষ্মা প্রকাশ করেছিল। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে, ভারতকেই অন্যতম অংশীদার হিসেবে দেখতে। সেই মোতাবেক, আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহী হয় হোয়াইট হাউস। যদিও অনেকেই মনে করছেন, এর পিছনে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা কিছুটা হলেও আছে।
মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে মার্কিন ডিপ স্টেট বাংলাদেশে একটি মার্কিন সেনাঘাঁটি তৈরির ছক কষেছিল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে আরাকান আর্মিকে সব ধরণের সহায়তাও করতে উদ্যোগী হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস কার্যত ডাবল গেম খেলতে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতকে চাপে রাখতে গিয়ে, চিন সযফরকালে ভারতের সেভেন সিস্টার্সে চিনকে আহ্বান করে বসেন। দাবি করেন, সেভেন সিস্টার্স ল্যান্ড লকড, তাই বাংলাদেশই একমাত্র সমুদ্রের রাজা। তিনি বেজিংকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাণিজ্য করা এবং লালমনিরহাটে বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মানের জন্য আহ্বান জানিয়ে বসেন। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক ছিল। বেজিংও সেই সুযোগে বাংলাদেশে তাঁদের গতিবিধি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসকে সতর্কও করেন। যার ফলে চিনকে ঠেকাতে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকায় বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভারতকেই বেছে নিতে হল আমেরিকাকে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয় শক্তির আগ্রাসনের ঝুঁকি নিয়ে দুই দেশেই উদ্বেগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনাথ সিং এবং পিট হেগসেথ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এরপরই আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে সম্মত হয় ভারত ও আমেরিকা। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য এবার গভীর আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি হয়ে গেলেই সেটা আরও পরিস্কার হয়ে যাবে।












Discussion about this post