ইরানের ইজরায়েল ও আমেরিকার দ্রুততম সময়ে বিজয়ের ক্ষেত্রে পথের কাঁটা কারা? কোন শক্তিতে ইরান বলতে পারে এই যুদ্ধ দীর্ঘসময়ের। খামেইনি সহ দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতার মৃত্যু হয়েছে। তারপরেও কিন্তু তেহরানকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে একটা ধারণা তৈরি হয় যে ইজরায়েল আর আমেরিকার কাছে অচিরেই নতিস্বীকার করবে ইরান। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ঠিক উল্টো। আমেরিকার শানিত আক্রমণের জবাব দিয়েছে আমেরিকার ভাষাতেই। ইরানের মূল শক্তি ইসলামিক রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC. ইরানের এই ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের শক্তি কতটুকু?শত নিষেধাজ্ঞার পরেও কীভাবে তারা এত শক্তি অর্জন করল।
ইরানে একটি বাহিনী আছে, যারা শুধু সেনাবাহিনী নয়, তারা রাজনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথ তারাই নিয়ন্ত্রণ করে। সেই বাহিনীর নাম ইসলামি বিপ্লবী গার্ড। ফার্সিতে সাপাহ ই পাসদারান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “ইসলামিক রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস আসলে রাষ্ট্রের ভিতরে একটা রাষ্ট্র।” সংগঠনটির জন্ম বিপ্লবের গর্ভে। ১৯৭৯ সালে ইসালমি বিপ্লবের পর রুহুল্লাহ খামেইনি একটি নতুন বাহিনী গঠন করেন। এই নতুন বাহিনীর কাজ শুধু সীমান্ত রক্ষা করা নয়। তার চেয়েও বড়ো দায়িত্ব ছিল বিপ্লবকে রক্ষা করা। একটি আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল এই বাহিনী। প্রশ্ন হল, তবে কি ইরানে কোনও সেনাবাহিনী নেই?
ইরানেরও নিজস্ব বাহিনী আছে। বাহিনীর নাম আরতেশ বা ইসলামী রিপাব্লিক অব ইরান আর্মি। অন্যান্য বাহিনীর মতোই তাদের তিনটি শাখা রয়েছে। সদস্য সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। ইসলামি বিপ্লবী আর আরতেশের মধ্যে তফাৎ হল আরতেশ রক্ষা করে রাষ্ট্রকে। আর IRGC রক্ষা করে বিপ্লবের আদর্শ, ইসলামিক সিস্টেম ও সুপ্রিম লিডারকে। ১৯৭৯ থেকে ইরানে রয়েছে একটি বিপ্লবী সরকার। তাই, ইসলামিক রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস মহাশক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। তারা এখন শুধু সেনা নয়। একটি একটি সমান্তরাল সামরিক ও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি। ইসলামিক রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পসের নিজস্ব স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব গোয়েন্দা শাখা এবং সবচেয়ে আলোচিত কুদস ফোর্স। দেড় থেকে দুই লক্ষ সক্রিয় সদস্য রয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডে। এ ছাড়া বাসিজ নামে একটি প্যারামিলিটারি ফোর্স বা বাহিনী আছে ইরানের। এই প্যারামিলিটারিতে মূলত ইরানের নিয়মিত কোনও সেনাবাহিনী নয়। কিন্তু তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে তাদের মাঠে নামানো যেতে পারে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের সবচেয়ে আলোচিত ইউনিটের নাম কুদস ফোর্স। বাহিনীতে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এই ফোর্স মূলত ইরানের বাইরের কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেই কার্যক্রমের মধ্যে শ্যাডো ওয়ার বা ছায়াযুদ্ধ অন্যতম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে IRGC. বলা হচ্ছে আমেরিকা তাদের মাথার ভার হালকা করতে ২০২০ সালে ড্রোন হামলায় কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ায়। ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরাকে আর মার্কিন ঘাঁটিতে। এই ঘটনা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ায়। ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরাকে, মার্কিন ঘাঁটিতে। এই ঘটনা প্রমাণ করে আইআরজিসি শুধু আঞ্চলিক শক্তি নয়, বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্র।
এই কুসদ ফোর্সের মূল ছায়াযুদ্ধ চলে ইজরায়েলের মোসাদের সঙ্গে। সেই যুদ্ধে গোপন অভিযান, সাইবার হামলা, টার্গেট কিলিং, নাশকতা সবই আছে। অনেকে বলেন IRGC হল রাষ্ট্রের ভিতরে রাষ্ট্র। এর অনেক প্রাক্তন কম্যান্ডার মূল ধারার রাজনীতিতেও যোগ দেন। ইরানের রাজনীতিতে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।












Discussion about this post