সংবাদের শিরোন চমকে ওঠার মতো। যে ইউনূসকে বিশ্ব চিনত একজন হাসিনা-বিদ্বেষী হিসেবে, সেই ইউনূসের হাত ধরেই দেশে ফিরবেন হাসিনা? এমনকী অদূর ভবিষ্যতে তাঁকে আওয়ামী লীগের শীর্ষপদে দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, যে দায়িত্ব এতদিন হাসিনা পালন করে এসেছিলেন, আগামীদিনে সেই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে তদারকি সরকারের প্রধানকে।
এটা গল্পের গোরু গাছে ওঠার মতো শোনালেও বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ বলে দিচ্ছে সম্ভাব্য সেই সমীকরণের কথা। রবীন্দ্রনাথের কথা ধার করে বলতে হয়, যাকে তুমি ফেলিয়াছো নীচে, সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে, পশ্চাতে রেখেছ যারে, সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে। যে হাসিনাকে ইউনূস ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই হাসিনাই তাঁর পরিত্রাতা হয়ে উঠতে চলেছেন। বর্তমানে ঘটনাপ্রবাহ মূলত তিন থেকে চারটি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
১) হাসিনা-ইউনূস সম্পর্ক কী বদলে যেতে পারে? ২) হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন না পারবেন না। ৩) তার আসার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা কী হবে। কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারত পুশ ইন করবে। দরকার হলে ইনসার্জেন্সি চালাবে। বাংলাদেশে আমলারা হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাবে। বিএনপি-জামাত ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবে। ইরানের মতো ঘটনাও বাংলাদেশের বুকে ঘটতে পারে। ইতিহাস বলছে, বিশ্বের নানা প্রান্তে রাষ্ট্রক্ষমতায় বদলের পর এই চিত্র দেখা গিয়েছে। তবে অন্য রঙে, অন্য সাজে। ডেড এনিমিরাই কিন্তু পরবর্তীকালে ত্রাতা হয়ে উঠেছেন। এবার এর সঙ্গে ইউনূসের মিল খুঁজে দেখা যাক।
ইউনূস কিন্তু এখন শত্রুবেষ্টিত হয়ে রয়েছেন। একসময় যাঁরা তাঁর মিত্র ছিল, এখন তাদের সঙ্গে ইউনূসের সম্পর্ক সাপে নেউলে। যে দল একসময় তাঁর পাশে ছিল, সেই বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হার্দিক নয়। হার্দিক না হওয়ার কারণ এক নয়, একাধিক। রাজনীতিতে একটি কথা প্রচলিত আছে। শত্রুর শত্রু আমার মিত্র। হাসিনার শত্রু যারা, তারাই এখন ইউনূসের শত্রু। ফলে, ইউনূসের বাঁচার একটাই রাস্তা হাসিনার সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া। তদারকি সরকার প্রধান এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য পেতে হলে তাদের শর্ত মেনে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে যদিও কোনও শক্তিশালী দল থাকে, তাহলে সেটা আওয়ামী লীগ। কারণ, এই একটি দলের নেতা কর্মীরা সাহস সঞ্চয় করে মাঠে নামে। দল নিষিদ্ধ ঘোষণা সত্ত্বেও তাদের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যায়নি। ইউনূস যাদের বিশ্বাস করেছিলেন, তারা প্রত্যেকে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সুতরাং, তাদের থেকে আরও কোনও সাহায্য তিনি পাবেন না। তাহলে সাহায্য করার জন্য রইল হাসিনা। আর এটাও মনে রাখা দরকার ইউনূস শত হলেও একজন ব্যাংক কর্মী। দিনের শেষে তাকে হিসেব মেলাতে হয়েছে। হিসেব না মিলিয়ে দফতর থেকে বাড়ি আসার কোনও জো ছিল না। ব্যাংকে কাজ করার অভিজ্ঞতা এখন ইউনূস রাজনীতির ক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছেন। কার কাছে গেলে খালি হাতে ফিরতে হবে না, সেটা ইউনূস ভালো করেই বুঝে গিয়েছেন। তাই, একসময় তাঁকে যিনি শত্রু মনে করেছিলেন, সেই হাসিনাই তার আগামীদিনে পরিত্রাতা হয়ে উঠবে। আর সেটার জন্য প্রয়োজন বঙ্গবন্ধু কন্যার নিরাপদে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন। সেই রাস্তা এখন থেকে ইউনূস তৈরি করতে চান। কারণ, বিপদ তাঁর যমূনা ভবন থেকে খুব বেশি দূরে নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post