আচমকাই জামায়াতে ইসলামি তাদের কৌশল বদল করে নিয়েছে। এতোদিন ধরে যে জামায়াতকে বাংলাদেশের মানুষ চিনত, সেই জামায়াতকে আর চেনা যাচ্ছে না। তাদের এই ভোল বদল নিয়ে বাংলাদেশে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জামায়াতের কোনও নেতা-কর্মীর মুখে ৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি। তারা কেন তাদের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলে না। জামায়াত কি মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন করে? বাংলাদেশের হালফিলের রাজনীতি বলছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামি এই নিয়ে সরব হবে। তেমন একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াতের তরফ থেকে যদি আগামীদিনে তাদের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমাপ্রার্থনা করতে দেখা যায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, ঘটনাপ্রবাহ সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক ছাত্রশিবিরের জয় সকলেই দেখেছে। এতোদিন বলা হত, এই দলের ভিত্তি ইসলামি মতাদর্শ। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে দেখা গেল অন্য ধর্মের লোককে নিয়েও তারা চলেছে। প্রার্থী তালিকার দিকে চোখ রাখলে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইসলামিক ছাত্র শিবিরের বাইরের প্রার্থীও সেখানে ছিলেন। সর্বমিত্র চাকমার কথা ধরা যাক। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। জয়ী হয়েছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সর্বমিত্র চাকমাকে বলতে শোনা যায় শিবিরের প্যানেলে শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বী নয়, অন্য ধর্মের মানুষকেও ছাত্র শিবির প্রার্থী করেছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগের রাজনীতি তিনি দেখেছেন। ওই দুই দলের রাজনীতি তাঁর পছন্দ হয়নি বলেই জামায়াতে ইসলামিতে যোগ দিয়েছেন।
এর অর্থ, ইসলামি ছাত্র শিবিরের ওপর অমুসলিমরাও আস্থা রাখছে। আসলে জামায়াত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বদলাতে শুরু করেছে। দল মনে করছে, সময়ের সঙ্গে তারা নিজেদের পরিবর্তন না করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করা যাবে না। পাওয়া যাবে না জনসমর্থন। সংকীর্ণ রাজনীতির গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে এক কোণায় পড়ে থাকতে হবে। জাতীয় রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের যে লক্ষ্য তারা নিয়েছিল, সেই লক্ষ্যে তারা কোনওদিন পৌঁছাতে পারবে না। মূল সংগঠন এবং অঙ্গ সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে নিজেদের অবস্থান বদলাতে হবে। সেটা বদল করতে পেরেছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
জামায়াত এটাও বুঝতে পেরেছে, মানুষের চিন্তাভাবনায় বদল ঘটছে। তারা আর অতীত রাজনীতির ধারক ও বাহক হতে নারাজ। মানুষের চাহিদা পাল্টাচ্ছে। সে কারণে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোটে মেয়েরাও ইসলামি ছাত্র শিবিরের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে এটা বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে গোপনে বোঝাপড়া হয়েছে। আর সেই বোঝাপড়ার জেরেই ইসলামি ছাত্র শিবিরের প্রার্থীরা এই বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়েছে। শুধুমাত্র গোপন বোঝাপড়ার ফলশ্রুতিতে এই ভোট পাওয়া যে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের সার্বিক পরিবর্তনের ফলেই ইসলামি ছাত্র শিবির নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা আগামীদিনে দলের রোডম্যাপ তৈরি করে ফেলেছে। অনেকে মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনে তারা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। ভোটের ফলাফলকে তারা প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে। ইসলামি ছাত্র শিবির সেই লক্ষ্যে সফল হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












Discussion about this post