তবে কি এবার যুদ্ধের দামামা বেজে গেল এশিয়াতেও? সেটা এখনই বলা না গেলেও এটুকু বলা যেতে পারে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, সেটা দ্রুত না থামলে পরিস্থিতি আরও বড়ো আকার ধারণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারতও জড়িয়ে যেতে পারে।
সোমবার রাতে কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলা চালায় পাকিস্তান। আকাশপথে ওই হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন ২ শোর বেশি। হতাহতদের মধ্যে অধিকাংশই হাসপাতালের রোগী। গোটা ঘটনায় এশিয়াজুড়ের নিন্দার ঝড় বইছে। প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তান কেন জেনেশুনে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাল? কাবুলের যে হাসপাতালে হামলা হয়েছে, সেই হাসপাতালে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলে। সোমবার রাতের ওই হামলার পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত নটা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড়ো অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪ শো জনের মৃত্যু ও প্রায় ২৫০ জনের জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে ফিনাত।
হামলা নিয়ে সরব আফগানিস্তানের দুই ক্রিকেটার রশিদ ও নবি। রশিদ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে হামলার ছবি দিয়ে লিখেছেন, “পাক হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। আমি মর্মাহত। হাসপাতালে হওয়া ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত – যে কোনও ধরনের হামলাই অনভিপ্রেত।পবিত্র রমজানে এই হামলা আসলেই খুব আতঙ্কের। এতে হিংসা আরও বাড়বে। ” নিজের পোস্টে জাতিসঙ্ঘের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন এই ক্রিকেটার। রশিদ লেখেন, “রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলিকে আমি সাহায্য করার অনুরোধ জানাই। আমি এই কঠিন সময়ে আফগান ভাই-বোনদের পাশে রয়েছি। এই কঠিন সময় আমরা কাটিয়ে উঠব। ” আফগানিস্তান ক্রিকেট দলে লেজেন্ড নবিও এই হামলা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে হামলার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। নবি লিখেছেন, “ কাবুলের হাসপাতালে হামলায় অনেকগুলি আশার অপমৃত্যু ঘটল। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে বেঘোরে প্রাণ হারালেন এতগুলি মানুষ। এর জন্য দায়ী পাকিস্তান। রমজানের ২৮ তম দিনে তারা প্রাণ হারালেন।” এই হামলার প্রসঙ্গে তিনি ইজরায়েলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। নবি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এই হামলার পর আর ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের তফাৎ কোথায়? ” দুই দেশের যাবতীয় দ্বন্দ্বের জন্য দায়ী একমাত্র পাকিস্তান।
সোমবারের ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালে হামলা হওয়ায় হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কাবুলের ওই হাসপাতালে কেবল মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করা হয়। সোমবার রাতে এই হাসপাতালে পাকিস্তান হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এরপরই আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘটনার কথা জানান। তাঁর কথায়, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালে হামলা হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক থেকে কড়া ভাষায় এই হামলার নিন্দা করা হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা শুধুমাত্র আফগানিস্তানের ওপর নয়। গোটা এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের এই আচরণকে তারা ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণকে ফের প্রকট করল বলে মনে করছে বিদেশমন্ত্রক। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই অন্য দেশের উপর হামলা করছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র রমজান মাস চলাকালীন যে এই হামলা হয়েছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভারত। বলা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপর ইচ্ছাকৃত ভাবে এই হামলাকে কোনও যুক্তিতেই সমর্থন করা যায় না।এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি অবশ্য হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাবুলের কোনও হাসপাতালে হামলা করা হয়নি। যেখানে অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে গোলাবারুদ মজুদ রাখা হত। সন্ত্রাসবাদীদের যেখান থেকে সাহায্য করা হত, সেই জায়গাগুলিকে নিশানা করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, এই দফায় টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই সংঘাত।












Discussion about this post