পাহাড়ের কোলে থাকা একটি অঞ্চল আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সেনাবাহিনী গুলি চালাতে বাধ্য হল। মৃত্যু হল তিনজনের। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর দাবি, এই অঞ্চলকে অশান্ত করতে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি তলে তলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের মদত দিচ্ছে ভারত।
অথচ তথ্য বলছে, খাগড়াছড়ি অনেকদিন ধরেই তপ্ত। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। প্রাণহানিও হয়েছে। তারপরেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী মুখ খুললেন। তিনজনের মৃত্যুর খবরে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে খাগড়াছড়তি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রতীপ চাকমা জানিয়েছেন, ‘‘ইউপিডিএফ’র (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) অপরিপক্ব আন্দোলনের মাশুল গুনেছে খাগড়াছড়িবাসী।’ তিনি বলেন, পাহাড়িরা সবসময় স্লোগান দেয় পাহাড় থেকে সেনা হঠাও। এই দুনিয়াতে কিছু বাস্তবতা আছে তার বাইরে আমাদের সুযোগ থাকে না। এমন দিন আসবে যেদিন আমরা চাইলে তারা (সেনাবাহিনী) এখানে থাকবে না। এমনও সময় আসবে আমরা তাদের জড়িয়ে থাকব। আবার সময় আসবে যখন আমরা তাদের বলব চলে যাও। সুতরাং, বাস্তবতাকে বুঝতে হবে। শর্ত যখন পূরণ হবে, তখনই আমরা অনুধাবন করব তারা থাকবে না চলে যাবে। সবাই মিলে কেন ভালোর দিকে যেতে পারছি না। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে এই প্রার্থনা করি যে আমরা যেন সবাই শান্তিতে থাকতে পারি। ভালোভাবে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে দিন যাপন করতে পারি। এটাই আমাদের একমাত্র কামনা, বাসনা। তাঁর দাবি, পরিস্থিত অশান্ত করতে কেউ অর্থায়ন করছে। দিচ্ছে মদত। একটা পক্ষ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
যদিও জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী বলেন, একটা মহল চায় এই উৎসবটা যেন ভালোভাবে উদযাপন করতে না পারি। ভারতের ইন্ধনে বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। পার্বত্যচট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা খাগড়াছড়িতে রয়েছেন। তিনি তদারকি করছেন। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যের বিরোধিতা হচ্ছে খোদ বাংলাদেশেই। তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মহম্মদ বলেন ‘একের পর এক ব্যর্থতার কারণে এক ব্যক্তির পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি বসে আছেন। তাঁর নির্লজ্জ হাসি এখনও দেখা যাচ্ছে। কোনও ধরনের তদন্ত ছাড়াই খাগড়াছড়ির ঘটনায় তিনি ভারতের চক্রান্ত দেখছেন।’
ঘটনা হল ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ শয়ন শীল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু সেই গ্রেফতারির পরেও কেন খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ অবরোধ বজায় ছিল, তা নিয়ে পুলিশ ও সেনা রীতিমতো ধন্দে রয়েছে। সেনাবাহিনী কিন্তু এটাকে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বলছে। এই পরিস্থিতির জন্য সেখানকার বসবাসকারী বাঙালিরা পাহাড়ীদের দায়ী করছে। আর পাহাড়ীরা দায়ী করছে বাঙালিদের।
এদিকে, খাগড়াছড়িতে জুম্মা ছাত্র জনতার ডাকা অবরোধ তুলে নিলেই ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার গুইমারার রামেসু বাজারে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনার তদন্ত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলা প্রশাসক এবি এম ইফতেখারুল খন্দকার বলেন, ‘খাগড়াছড়ির চলমান পরিস্থিত নিয়ে আলোচনা হবে। অবরোধকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তাদর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। জুম্মা ছাত্র জনতার পক্ষে যে আটটি দাবি করা হয়েছে, সেই দাবিগুলি অ্যাড্রেস করা হয়েছে। হিংসাত্মক ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি জেলা প্রশাসন গঠন করেছে। কমিটির সদস্যদের নাম পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post