বছর ঘুরলে বাংলাদেশে নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূসের মুখ নিসৃতবাণীর প্রেক্ষিতে তা বলা যেতে পারে। তিনি আরও ভালো ভালো কথা বলেছেন। যেমন নির্বাচন হবে সুষ্ঠু এবং অবাধ। যারা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া পদক্ষেপ করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে আবার একটি দল শাপলা প্রতীকের দাবিতে গোঁ ধরে বসে আছে। তারা বলছে, ওই প্রতীক দিলেই তারা ভোটে অংশ নেবে। না হলে তারা গোঁসাঘরে থাকবে। এত আলোচনার মাঝে ‘ইয়ে শেক্সপীয়র বিচ কাউয়া ক্যায়সে আয়া।’ কাউয়া মানে কাকটি কে, তার উল্লেখ অবশ্যই করা হবে। তবে ওই হিন্দি লব্জ নিয়ে একটি শব্দ খরচ করা যাক।
ব্যাপারটা এরকম ক্লাসে অধ্যাপক শেক্সপীয়রের একটি নাটকের অংশ নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা করছেন। পড়ুয়ারাও এক মনে শুনছে। আচমকাই জানলা থেকে একটা কাক কা-কা বলে ডেকে উঠল। আচমকাই অধ্যাপক বলে বসলেন ‘ইয়ে শেক্সপীয়র বিচ কাউয়া ক্যায়ে আয়া। মানে শেক্সপীয়রকে নিয়ে আলোচনার মাঝে একটা কাক কোথা থেকে এলো। এই ভূমিকার কারণ বাংলাদেশে যখন ভোট নিয়ে নানা কমিশন ব্যস্ত, ব্যস্ত তদারকি সরকার সেই সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ওই কাকেরে মতো কা কা করে বলে উঠলেন – উপদেষ্টাদের অনেকেই সেফ এক্সিট চাইছেন। একবার এই শব্দটি নিয়ে আলোচনা করা যাক।
সেফ এক্সিটের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় নিরাপদে এক স্থান থেকে অন্য একটি স্থানে চলে যাওয়া। অবশ্যই স্থানটিকে নিরাপদ হতে হবে। আর রাজনীতিতে সেফ এক্সিট মানেও কিন্তু একই। তবে টেকনিক্যালি একটা তফাৎ রয়েছে। কোনও দেশে রাজনৈতিক অবস্থা তৈরি হলে সে দেশের নেতা বা নেত্রীরা নিরাপদে দেশ ছেড়ে অন্য একটি দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এটা অবশ্যই রাজনৈতিক আশ্রয়। যে দেশে তাঁরা আশ্রয় নেবেন, সেই দেশের উপরমহল অর্থাৎ সরকারের সম্মতি অবশ্যই থাকতে হবে। সেটা প্রত্যক্ষভাবেই হোক বা পরোক্ষভাবে।
বাংলাদেশে প্রথম এই শব্দের জন্ম হয় ১৯৭৫ সালে। তারপর ২০০৮ সালে। ওই দুই সময়ে বাংলাদেশে এমন রাজনৈতিক প্রেক্ষপট তৈরি হয়েছিল যে সেই সময় অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয় গত বছর। যে কারণে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সেফ এক্সিটের দৌলতে ভারতে আশ্রয় নেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর নবনিযুক্ত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর সেফ এক্সিট নিতে দেখা যায় ফকরুদ্দিন আহমেদ এবং সেনাপ্রধান মৈনুদ্দিন আহমেদ। এ দফায় তৃতীয়বার উত্তরপাড়া সাক্ষী থাকতে চলেছে সেফ এক্সিটের। তার সূচনা অবশ্য করে দিয়ে গিয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা। গত বছর জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (নিউজ বর্তমান অবশ্য সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি)। দিনটি ৫ অগাস্ট। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে উঠছেন হাসিনা। যদিও সেই সময় জানা যায়নি তিনি কোথায় যাচ্ছেন। পরে জানা গেল হাসিনা এসেছেন দিল্লিতে। এই সব ঘটনা এখন অতীত। বর্তমান ঘটনা হল, তদারকি সরকারের অনেকেই এখন সেফ এক্সিটের জন্য মরীয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকী সেনাবাহিনীর অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। আর এই সেফ এক্সিটের কথা আরও একবার শোনা গেল নাহিদ ইসলামের গলায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post