বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রফতানি জীবনরেখা ইউরোপের বাজারে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এর ফলেই এখন বড় ধাক্কার মুখে ভারতের দুই চির শত্রুদের পাকিস্তান বাংলাদেশ। ভারত-ইউরোপ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের মধ্যে উদ্বেগের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।এই চুক্তিকে অনেকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করছেন, কারণ এটি ভারতীয় পণ্যের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রায় শতভাগ ট্যারিফ-ফ্রি অ্যাক্সেস দিচ্ছে।ফলে বাংলাদেশের ডিউটি-ফ্রি সুবিধা শেষ হওয়ার আগেই এবং পাকিস্তানের জিএসপি সুবিধার মেয়াদ সীমিত থাকায় দুই দেশের রপ্তানি নিজেদের সবচেয়ে বড় বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয়ে কাঁপছে।সাম্প্রতিক সময়ের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।চুক্তির আওতায় ইউরোপ ভারতীয় পণ্যের ৯৯.৫ শতাংশের ওপর ট্যারিফ কমিয়ে শূন্য করবে বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে, বিশেষ করে টেক্সটাইল, অ্যাপারেল, লেদার ও ফুটওয়্যারের মতো লেবার-ইনটেনসিভ সেক্টরে। ভারতের টেক্সটাইল রফতানি এখন ইইউতে ৯-১২ শতাংশ ট্যারিফের বোঝা বহন করে, কিন্তু এই চুক্তি কার্যকর হলে সেটা শূন্য হয়ে যাবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ভারতের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল রফতানি বছরে ২০-২৫ শতাংশ বাড়তে পারে।বাংলাদেশের জন্য এ খবর আরও ভয়ঙ্কর কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করাতে পারে। দেশটি ২০২৬ সালের নভেম্বরে লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি স্ট্যাটাস থেকে গ্র্যাজুয়েট করবে। এর ফলে ইইউর এভরিথিং বাট আর্মস স্কিমের অধীনে ডিউটি-ফ্রি অ্যাক্সেস আর মাত্র তিন বছর যা ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে।তারপর যদি জিএসপি+ স্ট্যাটাস না পাওয়া যায়, তাহলে গার্মেন্টস রফতানিতে প্রায় ১২.৫ শতাংশ ডিউটি দিতে হবে। ইইউ বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানির ৫০ শতাংশেরও বেশি গ্রহণ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯.৭১ বিলিয়ন ডলার। ভারত ট্যারিফ-ফ্রি হয়ে গেলে বাংলাদেশের দামি পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যাবে, মার্জিন সঙ্কুচিত হবে এবং বাজার শেয়ার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানি শুধু ১৯০ মিলিয়ন ডলার কমতে পারে, যদিও সামগ্রিক প্রভাব আরও বড় হতে পারে।পাকিস্তানের অবস্থাও কম উদ্বেগজনক নয়। পাকিস্তান ইইউতে জিএসপি+ সুবিধা পায়, যার ফলে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেলের বড় অংশ ডিউটি-ফ্রি যায়। এই সুবিধা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে পারে, কিন্তু তারপর নবায়নের নিশ্চয়তা নেই।ভারতের সঙ্গে ট্যারিফ প্যারিটি হয়ে গেলে পাকিস্তানের প্রাইস অ্যাডভান্টেজ শেষ হয়ে যাবে। পাকিস্তানের টেক্সটাইল রফতানির প্রায় ৩৯ শতাংশ ইইউতে যায়, যার মূল্য বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। দেশটির সাবেক কমার্স মিনিস্টার বলেছেন, এটি পাকিস্তানের ৯ বিলিয়ন ডলারের রফতানি শিল্পের জন্য ‘মাদার অব অল প্রবলেমস’। এক্সপোর্টাররা বলছেন, ভারতের দাম কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে, ফলে মার্জিন চাপে পড়বে, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ভারতের চিরশত্রু দুই দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান যে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post