ইসরায়েল ইরান যুদ্ধে কোন পক্ষ জয় লাভ করছে তা সঠিকভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সব পক্ষই কিন্তু জয়ী না হয়েছে ইসরাইল না ইরান, আমেরিকা তো নয়ই। কারণ আমেরিকা কিছু বোমা ফেলেছে তার বিরুদ্ধে তাদের এয়ার বেস কাতার এবং সিরিয়ায় আঘাত হেনেছে ইরান। এক কথায় ক্ষতি হয়েছে সবার কিন্তু জয় হয়নি কারোরই। কিন্তু সকলের জয় অধরা থাকলেও এই যুদ্ধে হেরে গিয়েছে যে দেশটি সেটি পাকিস্তান।
ইসরাইল ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের হারের কারণ আমেরিকার হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে পাকিস্তানের আকাশ বায়ুসেনা ঘাঁটি। এ যুদ্ধের আবহের আগেই যখন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আমেরিকায় পৌঁছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নবচনে যোগদান করেছিলেন তখনই অনেকে দাবি করেছিলেন, বেইমানি করলেই পাকিস্তান পেতে পারে আমেরিকার তরফ থেকে যুদ্ধাস্ত্র। আবার সেই সময়ের আগেই প্রকাশ্যে এসেছেন একটি খবর যে পাকিস্তান চীনের থেকে J35 যেটি চীনের পঞ্চম প্রযুক্তির যুদ্ধ বিমান সেটি কিনতে চলেছে এমন একটি টুইট করা হয়েছিল পাকিস্তানের তরফে। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অসীম মনিরের ওই সাক্ষাৎকারের পর টুইটটি তুলে নিতে দেখা যায় পাকিস্তানকে। আর এই ঘটনা থেকেই সন্দেহ করা হয়েছিল তবে কি পাকিস্তান চীনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার দিকে এগোচ্ছে। কারণ আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর তরফ থেকে স্পষ্ট বলা হয় আমেরিকা পাকিস্তানকে যুদ্ধাস্ত্র প্রদান করবে, কিন্তু রাশিয়া এবং চীন থেকে পাকিস্তান কোনরকম যুদ্ধাস্ত্র যদি ক্রয় না করে তবেই। তারপরেও দেখা গিয়েছিল এমন বেশ কিছু খবর প্রকাশ্যে আছে যে চীনের তরফ থেকে J35 পাকিস্তানকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানাচ্ছেন যে J৩৫ চীনের পঞ্চম প্রযুক্তি যুদ্ধবিমান, হাইপার মিসাইল, বা প্রযুক্তি এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাকিস্তান কে দিচ্ছে না চীন। আর সেই খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন J35 এবং HQ9, HQ16 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম গুলি কেন পাকিস্তানকে দিতে চাইছেনা চীন? এ কারণে সাথে মনে করা হচ্ছে এ সমস্ত যুদ্ধাস্ত্র প্রদানে চিনকে বাধা দিয়েছে ইরান। আর চীন এই মুহূর্তে ইরানের কথা শুনতে বাধ্য কারণ চিনের ৯০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় ইরান থেকেই। এই কারণেই এর আগে ইরানের তরফে হারমুস প্রণালী ঘোষণা করা হলে সবচেয়ে বেশি নড়েচড়ে বসেছিল চীন। কারণ এই হরমুস প্রণালীর মাধ্যমে সব থেকে বেশি তেল আমদানি হত চীনের। এই প্রণালী বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতো অনেক দেশই। দ্রুত সম্প্রতি সেসপায়ার হয়েছে ইরানের সে কারণে কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। আরেকটু স্থিতিশীল হলেই ইরান যায় পাকিস্তানকে ছেড়ে কথা বলবে না তা অনেক আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। কারণ ইরান জানতে পেরেছিল এবং তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে যে পাকিস্তান তাদের বিমানের মাধ্যমে আমেরিকার তথ্য পাঠিয়েছে ইসরায়েলের কাছে। জেব্রাইল এই মুহূর্তে ইরানের অন্যতম প্রধান শত্রু। এবং যে ইসরাইলকে পাকিস্তানের পাসপোর্টে ব্যান করা আছে। পাকিস্তানের বেইমানীর বিষয়টি আজ বিশ্বের দরবারে স্পষ্ট। কিন্তু গোটা বিশ্বের যে ৫৭ টি ইসলামিক দেশ রয়েছে তারা প্রত্যেকে ভেবেছিল পাকিস্তানের কাছে পরমাণু শক্তি আছে ফলে ইসলামিক দেশ গুলি বিপদে পড়লে সে পরমাণু শক্তির দ্বারা তাদের পাশে এসে দাঁড়াবে পাকিস্তান। এবং তার বদলা নেবে। আর সেই বিশ্বাস থেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি চলাকালীন ইরানের তরফের ঘোষণাও করা হয়েছিল ইসরাইল যদি পরমাণু হামলা চালায় ইরানে তবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালাবে পাকিস্তান। কিন্তু ততক্ষণে আমেরিকার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পাকিস্তান জানিয়ে দিল যে পরমাণু শক্তি একমাত্র তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য তারা ইরানের বদলা নিতে পারবে না।
আর এবার জানানো হলো চীনের তরফ থেকে জে ৩৫ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানকে প্রদান করা হবে না। কারণ j35 বা HQ9 ও HQ16 এই সমস্ত কিছুর তথ্য আছে আমেরিকার কাছে। কারণ পাকিস্তানের দুটি সেনাবাহিনী একটি চাইনিজ এবং একটি আমেরিকান। এই দুটির মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করা এমন কোন কঠিন কাজ নয়। ফলে পরোক্ষভাবে ইসরাইল ইরান যুদ্ধে পরাজিত হলো পাকিস্তান সেটিও আবার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্র চীনের দ্বারা।












Discussion about this post