বাংলাদেশে নির্বাচন আর মাত্র এক মাস বাকি। এরমধ্যে সে দেশের রাজনীতিতে বহু নাটকীয় পরিবর্তন হচ্ছে। এরমধ্যে সামনে এল রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার সামনে এল। যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, জামায়েত ই ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। জানা যাচ্ছে, শফিকুর রহমান ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেই বৈঠকের কথা কেন এতদিন সামনে এল না? প্রশ্ন উঠছে। তবে কি ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠকে জামায়াত? আসলে কি চলছে ঢাকায়?
ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে জামায়েত-ই ইসলামী আমিরের বৈঠক…এটি সামনে আসতেই প্রবলভাবে আলোচনা চলছে বাংলাদেশে। এই বৈঠকটি নাকি অনেকদিন আগে হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যেটা এতদিন গোপন ছিল। জানা যাচ্ছে, যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জামায়াত-ই ইসলামী আমীর। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য সম্মিলিত একটি প্রস্তুতি চলছে। জানা যাচ্ছে, বুধবারে নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়েত আমির ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াতের আমির রয়টার্সকে বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেমন প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় কূটনীতির তেমনটি করেননি। ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু কেন? এমনই প্রশ্ন করেছিলেন জামাতের আমীর। তিনি বলেন, সমস্যা কোথায়? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই। জামায়াতের আমিরের ওই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সারা পায়নি রয়টার্স। তবে জানা যায়, ভারত সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য তারা লড়াই করছেন। পরিকল্পনা করছেন। জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করতে পারে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে ভারত। এই সময় জামায়েতে আমির নিশ্চিত করেছেন, ২০২৫-এর শুরুতে এই বৈঠকটি হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছর পর বিষয়টি সামনে এল। ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। তিনি বলছেন, ভারতীয় কূটনীতিক নাকি বলেছেন, আমাদের সম্পর্ক উন্নত হওয়া দরকার। এছাড়া এদিনের সাক্ষাৎকারে জামায়েত আমির বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়েত-ই ইসলামীর আমির বলেন, আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়। আমরা কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চাই না। অর্থাৎ পাকিস্তানের বিষয়টি তিনি কৌশলগতভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের কথা বছরের শেষ প্রান্তে এসে জামায়াতের আমিরের জানানো, অনেকে নানা ভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করছেন। এরমধ্যে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি একজন নেতা কিছুদিন আগে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স নাকি আলাদা করে দেওয়া হবে। এখন তারা জামায়াতের সঙ্গে একই জোটে। পাশাপাশি জামায়াতি ইসলামী পাকিস্তানি মনভাপন্ন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, কেন ভারত তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে? এই প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, আদতে জামায়াতি এনসিপির জোট বাংলাদেশে জেতার জায়গায় রয়েছে? অন্যদিকে কেউ কেউ দাবি করছেন, বিএনপির সঙ্গে ভারতের একটা সমঝোতা হয়েছে। এটা কেন বলা হচ্ছে? কারণ তারেকের দেশে ফেরাটা নাকি ভারতের সিগন্যালেই। এরমধ্যে বিএনপির চেয়ারপার্সন তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে গেলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রত্যেকেই বলছেন, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে ভারতের। একটি ইঙ্গিতের কথা জানা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে বোমা ফাটালেন জামায়েত-ই ইসলামির আমির।












Discussion about this post