বড়োসড়ো ভাঙনে এনসিপি। কোথায় যাচ্ছে ইউনূসের পোষ্য সন্তানরা? ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, জামায়েত ই ইসলামীর সঙ্গে জোট করায় বোধ হয় ভুল হয়েছে এনসিপির। তাই এই পদত্যাগের হিড়িক। তাসনিম জারার পর তার স্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। এরপর এনসিপির মিডিয়া সেলের প্রধানও পদত্যাগ করলেন। এর পাশাপাশি যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন। তারা কেউ বলছেন না, রাজনীতি ত্যাগ করেছেন। তবে কি নতুন এনসিপি তৈরি হতে যাচ্ছে?
ভাঙন শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, দলের অস্তিত্বটা থাকবে কিনা। এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন তাসনিম জারার স্বামী খালেদা সাইফুল্লাহ। এছাড়াও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন। একের পর এক জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা পদত্যাগ করছেন। এইবার দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। জানা যাচ্ছে, দল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়া নেতাদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় এনসিপি বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়ছে কিনা— তা নিয়ে দলটির ভিতরে বাইরে নানা আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে দলটির আরেক পদত্যাগ নেতা মুনতাসির মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে তৃণমূল এনসিপি। এই ব্যানারে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। যদিও মুনতাসীরের তৎপরতাকে গুরুত্ব দেয়নি দলটির হাইকমান্ড। অর্থাৎ যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। মুশফিক উস সালেহীন জানিয়েছেন, ১লা জানুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এমনকি বিকেলে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে কার কাছে এমসিপি সংক্রান্ত কোনও আপডেট থাকবে না। এর আগে দুপুরে ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেছেন, এনসিপি ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়বেন না। এখনও পর্যন্ত এনসিপির ৯ জন নেতার পদত্যাগের খবর পাওয়া গেল। এর আগে মাহফুজ আলম বলেছিলেন, যেখানে এনসিপি জামাতের সঙ্গে জোট করলো, তখন এই এনসিপির সঙ্গে তিনি যুক্তি হতে চান না। এখন প্রশ্ন উঠছে, যারা এখনও পর্যন্ত এনক্লি থেকে পদত্যাগ করলেন, তারা কি মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে সংঘঠিত হচ্ছেন? তবে কি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে এনসিপির একটি বড় স্বপ্ন? এনসিপি কি ভুল পথে গেল? নাকি তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই এটা একদম ঠিক সিদ্ধান্ত? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসলে ডাকসু, জাকসু নির্বাচনে যেভাবে ভরাডুবি হয়েছে এনসিলির, সেখানে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট না বাঁধলে হয়তো তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারত না। কারণ এনসিপির অস্তিত্ব টিকে থাকা মুশকিল। এমনিতেই এনসিপিতে স্পষ্ট দুটি ধারা রয়েছে। একটি হল ইসলামিক ধারা এবং বাম ধারা। তবে এই মুহূর্তে শেষ পর্যন্ত যে এনসিপি পরে থাকল, সেটা কি ইসলামিক ধারা হিসাবেই ধরা হবে, নাকি তারা অন্য পরিচিতি পাবে! সেটা অবশ্য সময় বলবে।












Discussion about this post