বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ঘটে চলেছে একের পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। শুরু কিন্তু কোটা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে জন্ম হয় এক নূরের। তিনি ডাকসু ভিপি হলেন। তৈরি হল গণ অধিকার পরিষদ। ছয় বছর বাদে আবারও আন্দোলন। এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটে। আত্মপ্রকাশ ঘটে নাহিদ-আসিফের মতন তরুণ-তুর্কি নেতাদের। তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে মিডিয়ার সব আলো শুষে নেন। তৈরি করেন নতুন দল এনসিপি। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল বলছে, এনসিপির আত্মপ্রকাশের পিছনে সরকারের একটি ভূমিকা ছিল। তাদের শুরুটা বেশ ভালো হলেও বাকি সময় তাদের পথ চলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। জুলাই সনদ নিয়ে তদারকি সরকারের সঙ্গে তারা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে যায়। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের পথ বেয়ে তারা রাজনৈতিক দল গড়ে তুলল, সাম্প্রতিক অতীতে সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে। কিছু ঘটনায় সে দেশের সুশীল সমাজ ব্যথিত হয়েছিল।
কিছুদিন আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি সম্পর্কে বাতাসে একটি খবর ভাসতে শুরু করে। খবরটি হল, এনসিপি ভাঙতে চলেছে। তৃণমল এনসিপি নামে নতুন একটি দল আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। নেতৃত্ব দেবেন বহিষ্কৃত নেতা মুনতাসির মাহমুদ। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি-তে দেওয়া পোস্টে তিনি দল গঠনের কথা জানিয়েছেন।
মুনতাসির তার পোস্টে লেখেন, “তৃণমূল এনসিপি গঠন এখন সময়ের দাবি। সারা দেশ থেকে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা যোগাযোগ করছেন। সব জায়গা থেকে ভালো সাড়া পেলে আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে উদ্যোগ নেব, ইনশাআল্লাহ।” সব থেকে ভালো সাড়া পেলে আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি।
সমাজমাধ্যম মুনতাসির জানিয়েছেন, ‘আমার নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। যখন আমি উপদেষ্টাদের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছি। যখন বিভিন্ন অন্যায়গুলো নিয়ে বলছি, তখন লোক লাগানো হয়েছে। আমার ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছে। আসলে আখতার হুসেন অনেক অবদান রেখেছেন। আমার সহযোদ্ধা ছিলেন। আমরা একসঙ্গে অনেক লডা়ই করেছি। এই জুলাইয়ে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, এই নেতাগুলি যখন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়, দেশদ্রোহী হয়ে যায় তখন এটা সার্বিকভাবেই আমাদের সকলের জন্য দুঃখজনক বিষয়। ’
এনসিপিতে কিন্তু গোলমাল আজকের নয়। জাতীয় নির্বাচনে তারা কার সঙ্গে জোট গঠন করবে, তা নিয়ে দলে মতভেদ ছিল। বিএনপি, নাকি জামায়াতে ইসলামী– কোন দলের নেতৃত্বাধীন জোটে যাবে এনসিপি, তা নিয়ে নবগঠিত দলটিতে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জোট না হলে দুই ছাত্র উপদেষ্টা এনসিপিতে যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তারা সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন। তবে এখনও তারা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, এনসিপি নিজের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য প্রার্থী বাছাই করছে। কোন আসনে কে প্রার্থী হবে, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কারা রয়েছেন– এগুলো যাচাইয়ের পর এনসিপি সিদ্ধান্ত নেবে এককভাবে, নাকি কারও সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করা হবে। তখন ঠিক হবে, কোন দলের সঙ্গে জোট হতে পারে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মুজিববাদ ও মওদুদীবাদের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম কোনো দল একা পারবে না। বিএনপি ও এনসিপি– গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ধারার দুই শক্তির মধ্যে দায়িত্বশীল ঐক্য প্রয়োজন। তবে এ ঐক্যের শর্ত রয়েছে– বিএনপিকে তার পুরোনো সীমাবদ্ধতা ও পরিবারতন্ত্রের ছায়া থেকে বের হতে হবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। আর যারা ভারতের প্রভাব-রাজনীতির দিকে ঝুঁকে আছে, তাদেরও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূলধারায় ফিরে আসতে হবে।’












Discussion about this post