গত জুলাই-অগাস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গী ছিল একেবারে নেতিবাচক। তাদের কূটনীতি থেকে থেকে বিদেশনীতি – সব ছিল ভারত বিরোধী। সেই ভারত বিরোধী, বলা ভালো ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবের অঙ্গ হিসেবে তদারকি সরকার প্রধান সে দেশের মাটিকে পাক জঙ্গিদের ইচ্ছেমতো ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের আসল কুশীলব ছিল আমেরিকা। তারা চেয়েছিল ইউনূসকে বসিয়ে ফায়দা তুলতে। আমেরিকার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি। উলটে ইউনূসের ভূমিকায় তারা রীতিমতো ক্ষিপ্ত। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, চিন সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। চিন চাইছে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব প্রতিপত্তির বিস্তার ঘটাতে। সেটা যেমন ভারতের ক্ষেত্রে শুভ নয়, শুভ নয় আমেরিকার ক্ষেত্রেও। সেটা দুই দেশই বুঝতে পেরছে। ট্রাম্পের আমেরিকা এখন ভারতে সব দিক থেকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি সে দেশ তাদের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির ক্ষেত্রে বড়ো ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সেই নীতিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ভারতকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘আমাদের দায়িত্ব হবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সহ অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ককে আরও মজবুত করা। উদ্দেশ্য ইন্দো-প্যাসেফিক মহাসাগরীয় সুরক্ষায় নয়াদিল্লিকে অবদান রাখতে উৎসাহিত করা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে কখনও ত্রিপাক্ষিক, কখনও চতুরভুজ স্তরের বৈঠক। ’
বাংলাদেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে চাপ আসছে। দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ঢাকাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। সেটা বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশিষ্ট এক সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর কলামে। তিনি লিখেছেন, ‘তারা অর্থাৎ আমেরিকা জানিয়ে দিল, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন কাম্য নয়। ভূ-রাজনৈতিক কারণে দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনও বিকল্প নেই। এই পটভূমিতে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। প্রাথমিক আলোচনার পর দিল্লিতে খলিলকে আমন্ত্রণ জানান ডোভাল। বৈঠকটি হয় অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে। ’
যিনি এই প্রতিবেদন লিখেছেন, তার সম্পর্কে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম জগতে একটা কথা বেশ প্রচলিত। আর তা হল আমেরিকার রাজনীতির নাড়ি তিনি বেশ ভালোই বুঝতে পারেন। বিশিষ্ট এই প্রাবন্ধিক বুঝতে পেরেছেন, যে আমেরিকা চাইছে না ঢাকা দিল্লির সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠুক। তাই, বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধানের ওপর লাগাতার চাপ তৈরি করে চলেছেন। তিনি এটাও জানিয়েছেন, যে আগামীদিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন মোদি।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠক হয়েছে দু দফায়। প্রথম দফায় দুজনের মধ্যে। সেখানে তৃতীয় পক্ষ ছিল না। আর দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ছিলেন বেশ কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক। দোহাতেও খলিলুরের সঙ্গে ডোভালের বৈঠকে হয়েছে। সেখানেও যেমন ভারতের কয়েকজন আমলা ছিলেন, ছিল মার্কিন প্রতিনিধি। দিল্লি এবং দোহার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি থাকার একটাই কারণ, ওয়াশিংট চাইছে ঢাকা দিল্লির সঙ্গে যাবতীয় তিক্ততা মিটিয়ে নিক। আর সেটা বাংলাদেশের বিশিষ্ট ওই সাংবাদিকের নিবন্ধ থেকে স্পষ্ট।
তাছাড়া এবছর ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকে আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হোয়াইট হাউজে করেছিলেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আমরা জানি যে বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলে বাইডেন প্রশাসনের সময় মার্কিন ডিপ স্টেট জড়িত ছিল। সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জুনিয়র সোরোসের বৈঠকেও তা প্রমাণিত। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?’
ডিপস্টেটের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন,‘প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। বস্তুত আমি পড়েছি, ভারত এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। বাংলাদেশের বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর ছেড়ে দেব।’ আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি হল, এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার সব থেকে নির্ভরযোগ্য বন্ধু হল ভারত। সে কারণে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষাখাতে ১০ বছরের একটি চুক্তি সই করেছে।












Discussion about this post