এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার। / ও কি সূর্য না কি, স্বপনের চিতা/ ওকি পাখির কুজন নাকি হাহাকার’।
বাংলা স্বর্ণযুগের এই গানের সঙ্গে মিলে যায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি। বাংলাদেশের সকাল এখন রাতের চেয়েও ঘন অন্ধকার। এমন তমসাচ্ছন্ন রাত কবে দেশবাসী দেখেছিল, তা মনে করতে পারছে না। আইনের শাসন খাতা কলমে। সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত। পদ্মাপার জন্ম দিয়েছে এক নতুন শব্দ বন্ধনীর মবিক্র্যাসি। দেশজুড়ে চলছে বদ্ধ উন্মাদের আস্ফালন আর পেশি শক্তির প্রদর্শন। কবে দেশে ফিরবে গণতন্ত্র, তা কেউ বলতে পারছে না। কিন্তু কায়মনোবাক্যে একটাই প্রার্থনা – বাংলাদেশ ফিরুক তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। ফিরুক স্বাভাবিক ছন্দে। এই অবস্থায় দিল্লিতে বসে তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।
এই কর্মসূচি ছিল পূর্ব ঘোষিত। ফলে, নানা মহলে শুরু হয় গুঞ্জন। চলে নানা জল্পনা। তার কারণও ছিল। হাসিনার এই কর্মসূচির আগে তাঁর ছেলে জয় আলজাজিরাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তার মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবন নিয়ে। জয় আভাস দিয়েছিলেন যে তাঁর মা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন। ফলে, দিল্লির প্রস্তাবিত কর্মসূচি থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা তার রাজনৈতিক ইনিংসে ইতি টানতে চলেছেন কি না, সে বিষয়ে আগ্রহ ছিল সবার। যদিও হাসিনা সেই বিষয়ে একটি কথা বলেননি। বিষয়টি কিন্তু বেশ অর্থবহ। অর্থাৎ, তিনি যে রাজনীতি থেকে এখনই অবসর নিচ্ছেন না সেটা কিন্তু স্পষ্ট হয়ে গেল।
দিল্লি থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া হাসিনার অডিও বার্তার মূল সুর বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার। সেই দায়িত্ব তিনি তাঁর প্রিয় দেশবাসীর কাঁধেই অর্পণ করেছেন। চেষ্টা করেছেন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটাতে। যে জাতীয়তাবোধকে গত ১৫-১৬ মাসে তিলে তিলে বিনষ্ট করেছেন তদারকি সরকার প্রধান। ভোটের আবহে হাসিনার এই অডিও বার্তাকে অন্যভাবেও দেখা যেতে পারে। এটা হল ইউনূসের জন্য আল্টমেটাম।
কী বলেছেন হাসিনা? বঙ্গবন্ধুকন্যার মতে, বাংলাদেশে রক্তক্ষয় হচ্ছে। অডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘Bangladesh stands today at the edge of an abyss, a nation battered and bleeding, navigating one of the most perilous chapters in its history. ’ অর্থাৎ বাংলাদেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর মতে বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে হলে মহম্মদ ইউনূসকে এখনই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। ইউনূসের সময় সংঘটিত হিংসা ও অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের তদন্তে জাতিসঙ্ঘের টিম পাঠানোর দাবি তোলেন আওয়ামী লীগ।
পূর্ব ঘোষণা মতো শুক্রবার দিল্লিতে ফরেন কলেজ ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া আয়োজিত বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনাচক্রে অনলাইনে সংযুক্ত হন শেখ হাসিনা। হাসিনার ভাষণ শুনতে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরে পরে হাজার হাজার মানুষ ওই লাইভ সম্প্রচার অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেন। কুড়ি মিনিটের মধ্যে দেখা যায় ইউটিউবে ১৩, ৮০৯ জন অনুষ্ঠানটি দেখছেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে সেটা পৌঁছে যায় ৫৪ হাজারে। আর সাড়ে ছটার পর সেটা বেড়ে দাড়ায় ৯২৫২৫। এক পর্যায়ে দর্শকসংখ্যা এক লক্ষ ছাপিয়ে যায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post