ভারতের স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীকে শেষ কবে সাংবাদিক সম্মেলন করতে দেখা গিয়েছে ?
এটা কিন্তু কুইজের ভালো প্রশ্ন হতে পারে। কারণ, উত্তর খোঁজার জন্য একের পর এক ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যেতে হবে। ভারতীয় সেনাপ্রধান বিরাট কোনও অঘটনা না ঘটলে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন না। ভারতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে কিছু বলার থাকলে হয় সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে বিবৃতি জারি করা হয়। না হলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কথা বলেন। অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু পোস্ট করেন। এই সব কিছু বলার কারণ, আমাদের স্থলসেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর দীর্ঘ একটি সাংবাদিক সম্মেলন। সাংবাদিক সম্মেলন টানা এক ঘণ্টার। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। প্রতিবেশী তিন দেশের প্রেক্ষিতে ভারতীয় স্থল সেনার অবস্থান তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এক ঘণ্টার সাংবাদিক সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল দ্বিবেদী এমন কিছু বলেছেন, যা নিঃসন্দেহে তাৎপর্য পূর্ণ। যেটা আরও বেশি করে নজর কেড়েছে তা হল তাঁর এই সাংবাদিক সম্মেলন হল এমন একটা সময়ে যখন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে শুরু হয়েছে ভোট প্রচারের হাওয়া। পদ্মাপারে ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
কী বলেছেন আমাদের সেনাপ্রধান, সেদিকে এবার নজর দেওয়া যাক। প্রতিটি বিষয়ে তিনি মুখ খুলেছেন। মূলত চারটি বিষয়ে জেনারেল দ্বিবেদী তাঁর ইউনিটের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে বহিশত্রুর মোকাবিলা করতে বাহিনী প্রস্তুত। ভারত এই মুহূর্তে সীমান্তে আটটি জঙ্গিঘাঁটি তালাচাবি দিয়ে দিয়েছে। আটটি জঙ্গিঘাঁটির মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক সীমান্তে। সেখানে ১০০ থেকে ১৫০ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি রয়েছে। সিঁদুর অপারেশন নিয়ে কিছুদিন আগেও একটি প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে থাকে। প্রশ্নটি হল – অপারেশন সিঁদুর কি শেষ? জেনারেল দ্বিবেদী জানিয়ে দিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর এখন অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সেনাপ্রধান বলেন, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাকিস্তান বুঝে যায় যে ভারতীয় সেনা কী পদক্ষেপ করতে চলেছে। সে কারণে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডি থেকে এক যোগে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানানো হয়। জেনারেল দ্বিবেদী এও বলেন, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে কেন্দ্র থেকে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। জেনারেল বলেন, অপারেশন সিঁদুর ছিল এমন এক সামরিক অভিযান যা ভারতের দৃ়ঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাব এবং সংযমকে সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর নৈতিক জোর এবং পেশাদারি উৎকর্ষেরও প্রতিফলন এই অভিযান।
সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় জম্মুর আকাশে পাঁচটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। সূত্রের খবর, তার আগে গত শুক্রবার পাকিস্তানের একটি ড্রোনে করে দু’টি পিস্তল, তিনটি কার্তুজ, ১৬টি বুলেট, একটি গ্রেনেড ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ। ১৫ জানুয়ারি ভারতে সেনা দিবস। তা উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠকে জেনারেল দ্বিবেদী জানিয়েছেন, শনিবার থেকে আটটি ড্রোন দেখা গিয়েছে। দ্বিবেদীর কথায়, ‘‘আমার মতে, ওই ড্রোনগুলি প্রতিরক্ষামূলক, যা নজর রাখতে চেয়েছিল যে, কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না।’’ এর আগে নাগরিকের পাঠানো ড্রোন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কেন্দ্রকে এই নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই সব ড্রোনের মাধ্যমে ভারতে মাদক এবং অস্ত্র পাঠানো হয়। যদিও পাকিস্তান সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দুই দেশের সেনাপ্রধানের মধ্যে কথা হয়েছে দ্বিবেদী বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওদের বলা হয়েছে, এটা আমরা মানব না, দয়া করে বন্ধ করো। এটা ওদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ এই নিয়ে পাকিস্তান যদিও এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
সেনাপ্রধান বলেন, ১০০ থেকে ১৫০ জঙ্গিকে নজরদারির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থাৎ, ভারত এই সব জঙ্গিঘাঁটিগুলি লক করে দিয়েছে।












Discussion about this post