‘দেখো ভালো যে জন রইল ভাঙা ঘরে / মন্দ যে সে সিংহাসনে চড়ে / ও ভাই সোনার ফসল ফলায় যে তার / দুই বেলা জোটে না আহার’।
এ গান কোন বাংলা ছবির, তার উল্লেখ করার কোনও প্রয়োজন নেই। তবে সংবাদের শিরোনামের সঙ্গে এই গানের মিল অনেকটাই। ফারাক যৎসামান্যই। ভালো যে জন সে তো ভাঙা ঘরেই রয়েছে। কেউ যদি নিজের ঘর ছেড়ে অন্য ঘরে থাকে, তাহলে সেই ঘরকে তো ভাঙা ঘর বলাই যায়। আর মন্দ যে জন তার এখনও সিংহাসনে চড়া হয়নি। সিংহাসনে তারা যাতে বসতে পারে, তার জন্য এখন চলছে প্রস্তুতি।
পদ্মাপারে এমনটা হতে পারে, সেটা কেউ একবারের জন্য বুঝতেও পারেনি। কী হওয়ার ছিল, আর কী হতে চলেছে। কী হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে দু-চার কথা। চারিদিকে রব ওঠে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসতে চলেছে। হাসিনাই আবার প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতে চলেছেন। কখন যে হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে গেল, তা কেউ বুঝতেই পারল না। যার দেশে ফেরার কোনও কথাই ছিল না, সে তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরলেন। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেটাও কেউ আন্দাজ করতে পারেনি। কিন্তু সেটাই হয়েছে। তারেক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একটি হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন। ফলে, তারেক ফ্লুকে জিতে যাবেন, এমনটা ভেবে নেওয়া মুর্খামির কাজ হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। পদ্মাপারে ভোটের লড়াই বিএনপি বনাম জামাতের। অথচ লড়াইটা হওয়ার কথা ছিল আওয়ামী-বিএনপি-জামাতের। রাজনীতির রেখা যে কখনও সমান্তরালভাবে চলে না, অঘটন যে কোনও সময়ে ঘটতে পারে, সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দিল বাংলাদেশ। পদ্মাপারে যা ঘটল, তা অতীতের সব ঘটনাকে ছাপিয়ে যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ঠ।
গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের একটি অডিও পেয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকা জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী বেশ কয়েকবারই নিষিদ্ধ হয়েছে। সবশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছে। প্রথাগতভাবে তারা শরিয়া আইনে দেশ পরিচালনা ও সন্তানদের জন্য নারীর কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার কথা বলে আসছে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটি তাদের ভাবমূর্তি উদার করছে। দুর্নীতি নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে দলের সমর্থন জোরালো করছে। ফাঁস হওয়া অডিওতে এক কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমরা জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই চাই। আপনারা কি ওদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? ওঁরা কি আপনাদের অনুষ্ঠানে আসতে রাজি হবেন?’’
কী বলেছিলেন ওই মার্কিন কূটনীতিক? ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা যায় “We want them to be our friends’’। তিনি আরও বলেন “the country has “shifted Islamic’’ and predicted Jamaat-e-Islami would “do than it’s ever done before’’ in the Feb 12election.
প্রশ্ন উঠেছে কেন হঠাৎ করে আমেরিকা জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছে? আমেরিকা এবং তাদের কূটনীতিকরা মনে করেন, বাংলাদেশে জামায়াত ক্ষমতায় এলে তারা তাদের কট্টরপন্থাকে দেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। এখানেই আমেরিকা তোলে দাওয়াইয়ের প্রসঙ্গ। ফাঁস হওয়া অডিওতে এক মার্কিন কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, ‘জামাত শরিয়া চাপিয়ে দেবে, আমি এটা বিশ্বাস করি না। আর যদি দলের নেতারা তা করার চেষ্টা করেন, আমেরিকা পরের দিন তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেবে। ’
যদিও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শি জামাতের সঙ্গে মার্কিন ঘনিষ্ঠতার কথা মানতে চাননি। তাঁর কথায়, ‘ডিসেম্বরের ওই কথোপকথন স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কূটনীতিকদের সাধারণ আলোচনামাত্র। সেখানে জামাত ছাড়া অনেক রাজনৈতিক দলে সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমেরিকা কোনও একটি বিশেষ দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির পক্ষপাতী নয়। বাংলাদেশের মানুষ যে দলকে সরকারে নির্বাচিত করবে, আমেরিকা তাদের সঙ্গেই কাজ করবে।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post