মাত্র দু-সপ্তাহ আগে সেনাপ্রধান সহ তিনবাহীনির প্রধান যমুনায় গিয়ে ইউনূস সাহেবকে কড়া কড়া কথা শুনিয়ে এসেছিলেন এবং তা প্রকাশ করেছিনেন সেনাকর্মীদের সামনে যে সরকার যে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে, সেটি করিডর হোক বা বন্দর, কিন্তু সেনাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করছে না। তাই বিয়ে বিরক্তি প্রকাশও করেছিলেন। কিন্তু ইদের দিন স্বস্ত্রীক সাক্ষাৎ করেন সেনপ্রধান, তাহলেকি সেমাই খেয়েই সব দ্বন্দ মিটে গেল ওয়াকার-ইউনূসের
গত দশ মাসের বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কম দিনই আছে যেখানে ওয়াকার এবং ইউনূসের দ্বন্দ সামনে আসেনি। এমন কি তারা একে অপরের বিরুদ্ধে খোলাখুলি কথাও বলেছেন। যেখানে সেনাপ্রধানের ভোটের দাবীকে তার নিজস্ব মতামত বলে চালিয়ে দিয়েছেন ইউনূস সাহেব তো, সেনাপ্রধানও ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট নিয়ে ডঃ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন, এবং ইউনূস সাহেবকে ডঃ মহম্মদ ইউনূস বলায় অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন যে সেনাপ্রধান ইউনূস সাহেবের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য দেখাননি। অনেকেই মনে করেন ইউনূস সাহেব নিজে কিছু বলেন না। তার মনের কথাটি অন্য কাউকে দিয়ে বলিয়ে দেন। উদাহরন হিসাবে যেমন বলা যায় যে তার পদত্যাগের ইচ্ছাটি। যেটি তিনি নিজে কথাও বলেননি। কিন্তু নাহিদ ইসলাম বলে যে প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ নিয়ে ভাবছেন। তো এবার ঈদে সেনাপ্রধান এবং নৌবাহীনির প্রধান ইউনূস সাহেবের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে তার বাড়ীতে এসে।তাই অনেকে মনে করছেন সেমাই খেয়েই কি মিটে গেল ওয়াকার ইউনূসের দ্বন্দ, নাকি এটি সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। তবে এখানে একটা জিনিস স্পষ্ট হল যে সেনাপ্রধান এবং নৌবাহীর প্রধান কেউই হজে যাননি। তবে এবার ইদে ইউনূস সাহেব অনেকগুলি উপহার দিয়েছেন দেশবাসীকে তার মধ্যে যেমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভোটের ঘোষনা এবং করিডর নিয়ে দেশবাসীর কাছে সরকারের মনোভাবকে স্পষ্ট করা। কিন্তু তার এই বক্তব্যের পর কি দেশবাসী এবং সেনাপ্রধান বুঝতে পেরেছেন তিনি আসলে কি চাইছেন। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, যদি দৃশ্যমান বিচারিক প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পাই, মৌলিক সংস্কারগুলো আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয় এবং নির্বাচনকালীন কিছু সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে বিচার বিভাগের, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, নির্বাচন কমিশনের- এগুলো সম্পন্ন হলে এপ্রিলে নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু তার পূর্বে নির্বাচনকালীন এই সংস্কারগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এখন প্রশ্ন সংষ্কার বলতে ঠিক কোন কোন বিষয়গুলিকে ধরা হবে, তা ঠিক করবে কে। তখনকি আবার সেনাপ্রধান হস্তক্ষেপ করবেন। কারণ বাংলাদেশে রাজার দল বলতে যেটি বোঝায় সেই এনসিপি এখনও তাদের নিবন্ধন পায়নি, এমনকি তাদের নিবন্ধন পাওয়ার আবেদনটিও সম্পূর্ণ হয়নি। এব্যাপারে সারজিস আলম বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন, সেটির আবেদন করার যে প্রক্রিয়া, তা এই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আশা করছি সম্পন্ন করতে পারব। এর জন্য ১০০টি উপজেলা ও ২২টি জেলায় যে কমিটি প্রয়োজন হয়, যেগুলো আমাদের ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। আমাদের অফিস নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যথাসময়ে যে প্রক্রিয়া আছে, তা অনুসরণ করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো আমরা নিবন্ধন কার্যক্রমটি সম্পন্ন করব।’ অর্থাৎ সব মিলিয়ে ভোট যে এপ্রিলে হবে তা বলা মুশকিল। সেনাপ্রধান এবং বিএনপি যতই ভোট নিয়ে আগ্রহ দেখান না কেন, ভোট হওয়ার দিন ঘোষনা না হলে ভোট কবে হবে তা বলা মুশকিল। তাই দেশবাসীর মনে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, যে কোনদিন আবার ওয়াকার ইউনূস বাকযু্দ্ধে জড়িয়ে যেতে পারেন।












Discussion about this post