ভারত কি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে?
সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা যাচ্ছে না। এ সব ক্ষেত্রে বলা সম্ভবও নয়। কিন্তু বাংলাদেশ বাড়াবাড়ি করলে ভারত যে চুপ করে বসে থাকবে না, সেটা জোর দিয়েই বলা যেতে পারে। তার একটা ক্ষেত্র কিন্তু সাউথব্লক প্রস্তুত করে রেখেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া তিন জায়গায় ভারতীয় সেনা নতুন তিনটি ছাউনি তৈরি করেছে। তিনটি জায়গা হল ধুপগুড়ি, চোপড়া এবং কিষাণগঞ্জ। তিনটিই কিন্তু চিকেন নেকস থেকে খুব কাছে। সাউথব্লকের এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে পদ্মাপার থেকে লাগাতার ভারতকে উদ্দেশ্য করে শাসানি। সেই সঙ্গে সেভেন সিস্টার্স দখলের হুমকি। ভারতের এই সাতটি রাজ্য দখল করার দুঃসাহস বাংলাদেশ যে দেখাবে না, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু কথায় আছে সাবধানের মার নেই। তাই, সাউথব্লক আগে থেকে পদক্ষেপ করল।
পাশাপাশি বাংলাদেশকে সাউথব্লকের তরফে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। বার্তা দিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বলেছিলেন – ঘুসকে মারেঙ্গে। তারপরেও কিন্তু বাংলাদেশের বাড়াবাড়ি বন্ধ হয়নি। রাজনৈতিকমহল এবং সমরবিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলাদেশ চাইছে ভারত তাদের ওপর চড়াও হোক। তাহলে তারা ভালো করে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে বলতে পারবে যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দখল করার ফন্দি নিয়ে ভারত তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র নীতি কখনই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দখলের কথা বলে না। সেটা বাংলাদেশ ভালো মতন জানে। বাংলাদেশ দখলের কোনও অভিসন্ধি ভারতের থাকলে ভারত অনেক আগেই দেশটি দখল করতে পারত। মুজিব হত্যার পরে ভারতের সুযোগ ছিল বাংলাদেশ দখল করার। ভারত কিন্তু একবারের জন্য বাংলাদেশ দখল করার কথা কল্পনাও করেনি। বর্তমানে হাসিনা ক্ষমতায় নেই। তাই, ভারতের সুযোগ ছিল বাংলাদেশ দখল করার। সেটা সাউথব্লক করবে না। তাঁর কারণ শুধু ভারতের পররাষ্ট্র নীতি নয়। ভারতের উত্তর-পূর্বে জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার ক্ষেত্রে হাসিনার অবদান স্মরণ করার মতো। দিল্লির সে কথা মনে আছে। চিরকাল সেটা তারা মনে রাখবে।
এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশের মতলবটা কী? সোজা কথায় ভারতকে লাগাতার উস্কে যাওয়া। যাতে দিল্লি ঢাকার পেতে রাখা ফাঁদে পা দিয়ে একটা যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আলম ফজলুর রহমান। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাসিনার মদতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে। হাসিনার সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতকেও জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ সেনাকে দূর্বল করে দেওয়া। তাতে নাকি ভারত লাভবান হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত মেজর রহমান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেন, “ ঘটনার সময় ভারত থেকে এসেছিলেন ৯২১ জন। তার মধ্যে ৬৭ জনের কোনও হিসেব নেই। ”
এখানে প্রশ্ন হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকা যদি তদ্বির করতে পারে, চিঠি পাঠাতে পারে, তাহলে ঢাকা কেন দিল্লির কাছে এই বিষয়ে কৈফিয়ৎ চাইছে না? একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঢুকে একটি গণহত্যায় ভিন্ন কোনও দেশের সেনার সরাসরি যোগদান তো মারাত্মক অপরাধ। সে ক্ষেত্রে সেই দেশে সরকারে যেই থাকুক না কেন, তাদের তো কৈফিয়ৎ চাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কৈফিয়ত চাইছে না কেন? তার কারণ কি এটা যে এই সব বলে ভারতকে যদি সামরিক পদক্ষেপের জন্য উস্কে দেওয়া যায়। ভারত কি সেই ফাঁদে পা দেবে?












Discussion about this post