২০২৪ সালে ড. মহম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা করার পর পশ্চিমা মহলে এক ধরনের উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। সেই উচ্ছ্বাস এখন প্রশ্নবিদ্ধ। গত বছরের গণআন্দোলনে ছাত্রদের আত্মত্যাগে থেকেও বেশি সক্রিয় ছিল বিদেশি শক্তি। ডিপ স্টেট। তাদের মনে হয়েছিল, হাসিনার থেকে ইউনূস অনেক ভালো। তারা বিশ্বাস করেছিল, ইউনূসকে বসালে তারা তাদের স্বার্থ পূরণ করতে পারবে। তাদের স্বার্থ তো পূরণ হয়নি, উলটে বাংলাদেশ চলে গিয়েছে খাদের কিনারে। বাজার অগ্নিমূল্য। মুদ্রাস্ফীতির গতি উর্ধ্বমুখী। বিনিয়োগ নেই, দেশের রিজার্ভ কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা – সর্বত্র নৈরাজ্য।
অনেকেই বলছেন, হাসিনা কঠোর ছিলেন ঠিকই। কিন্তু সেই সরকারের ছিল সাংবিধানিক স্বীকৃতি। এই সরকারের কোনও সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই। জনগণের ভোটে জিতে আসা একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে ইউনূস ক্ষমতা দখল করেন। এই দখল নিছক রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বাংলাদেশের মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগে বাংলাদেশে উত্থান ঘটছে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর। প্রমাণ খেলাফতের মামুনুল হক সম্প্রতি আফগানিস্তান সফরে যান। রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই সফর নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনও নেতা আফগানিস্তান সফরে গিয়েছিলেন বলে মনে করতে পারছেন না। রাশিয়া ছাড়া বিশ্বের কোনও দেশ তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। যদিও সেই দেশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন রয়েছে। মামুনুল হকের আফগানিস্তান সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে জঙ্গিবাদ গোষ্ঠীর উত্থান বন্ধ করতে না পারলে অচিরেই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংস্করণ। মামুনুল হকের সফর নিয়ে দলের তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হোক না কেন, সফরে উদ্দেশ্য যে মোটেই শুভ নয়, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নয়।
মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইউনূস বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য, এমনকী বিশ্বশান্তির জন্য ক্ষতিকর ব্যক্তি। তাঁর মতে ইউনূসের সরকার বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংস করতে চায়। বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিপরীতে এক ধীর গতির অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল কেন্দ্র ছিল ইউনূসের হাতে। এর জন্য বিদেশি শক্তি মুঠো মুঠো টাকা খরচ করেছে। অপর দিকে মামুনুল হক বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে চান যে রাষ্ট্র উগ্রবাদকে সমর্থন করে এবং মদত দেয়। মদত দেয় ধর্মান্ধতাকে, জঙ্গিবাদকে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইউনূসকে সমর্থন করে অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিয়েছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন মাইকেল রুবিন। মার্কিন প্রশাসনের কাছে রুবিনের আর্জি জামায়াতে ইসলামিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। শেখ হাসিনাকে এবং তাঁর সরকারে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরী।
এই প্রসঙ্গে রুবিন ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খামেইনির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মনে করেছিল খামেইনি ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিবর্তে গণতন্ত্রকে প্রাধান্য দেবেন। কিন্তু খামেইনি ঠিক উল্টোটাই করেছেন। তিনি ধর্মতন্ত্র কায়েম করেন। ইউনূসকে ঘিরে একই ভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এই ভ্রান্তি যত দ্রুত দূর হয় ততই ভালো। না হলে শুধু বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। মায়ানমার, নেপাল – সার্বিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া অশান্ত হয়ে উঠবে। আমেরিকা যেন কোনওভাবেই বাইডেনের পথ অনুসরণ না করেন। হাতে সময় যতটুকু আছে, ট্রাম্প প্রশাসন সেটাকে কাজে লাগাক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post