পটিয়া থানার ওসি প্রত্যাহারের সাথে সাথে বিদায় ঘন্টা বাজলো মহম্মদ ইউনুসের! গত অন্তরবর্তী সরকার গঠনের কিছুমাস পর থেকেই ইউনুস বিদায় এর প্রহর গুনছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগন। বর্তমানে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। অন্যদিকে রাজনৈতিক দল গুলি দিশেহারা, আগামী দিনে ক্ষমতার ভবিষ্যৎ কি হবে?
সম্প্রতি পটিয়া থানার ওসিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল থানায় এলাকা। অন্যায় দমন করতে গিয়ে অন্যায়ের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তার পদত্যাগের দাবিতে থানা ফেরাও কর্মসূচি নিয়েছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা। আর এবার বৃহস্পতিবার রাতে পটিয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হলো। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মহম্মদ ইউনুসের বিদায়ের জন্য আরও একটি পথ প্রশস্ত করে দিল। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম নিশ্চিত করেন পটিয়ার ওসিকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পটিয়া শহীদমিনার চত্বর থেকে ছাত্রলিগের এক নেতাকে আটক করে বৈষম বিরোধী ছাত্রনেতারা। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশের কাছে গ্রেফতারের দাবী জানানো হয় কিন্তু তার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেল ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন মামলা বা অভিযোগ নেই যার ফলে তাকে গ্রেফতার করতে অপারকতা প্রকাশ করে। কেন তাকে আটক করা হলো না, এই দাবিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। এরপর থানার মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতার উপর মব ভায়োলেন্স সৃষ্টি করা হলো, আর সেখানে পুলিশ বাধা দিতে আসলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা। সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন। পুলিশের সংঘর্ষের পর থেকে থানা অবরোধ করে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের সাথে এই কর্মসূচিতে যোগ দেয় ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরাও। এই ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কড়া প্রতিবাদ শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা।
এরপরই, চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে বুধবার রাতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির আন্দোলনের মুখে পরেই তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়, বলে জানাচ্ছে পটিয়া থানার পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মিছিল নিয়ে ওই ব্যক্তিকে মারতে মারতে থানার ভেতরে নিয়ে আসা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ করার অভিযোগ তোলা হয়। এ সময় তাঁরা থানায় ভেতরে একপ্রকার ‘মব’ সৃষ্টি করেন। তাই আইনের ভেতরে থেকে পুলিশ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করে।
মূলত, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সারাদেশে দলবদ্ধভাবে ছাত্রদের মধ্যে মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে অন্তরবর্তী সরকারের মদতে। আর ছাত্রদের এই পাশবিক আচরণ ও মবের দ্বারাই এই অন্তর্ভুক্তি সরকার ধীরে ধীরে নিজেদের অস্তিত্ব সংকটের দিকে এগিয়ে চলেছে।












Discussion about this post