বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বিদ্বেষ চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছেন, পদ্মাপাড়ের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি ফৌজ কোনো ভারত-বিরোধী পদক্ষেপ করছে না। বরং উভয় দেশের সেনাপ্রধানদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলছে।অন্যদিকে, পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রুখতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি স্পষ্ট জানান, ১৯৭১ সালের মতো আজও ভারতীয় সেনাবাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। ইউনুস সরকারের আমলে কট্টরপন্থীদের আস্ফালন বাড়লেও বাংলাদেশি সেনা এখনো পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরবর্তী সামরিক অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।ভারতীয় সেনাপ্রধান জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের সাথে যোগাযোগ রাখছি। আমাদের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রধানরাও তাদের সমকক্ষদের সাথে আলোচনা করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কোনো পদক্ষেপই ভারতের বিরুদ্ধে নয়।” এমনকি দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও আগের মতো স্বাভাবিকভাবেই চলছে।বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান দ্বিবেদী বলেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থায়িত্ব এবং তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন জেনারেল দ্বিবেদী। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভারতবিরোধী যেকোনো তৎপরতার কঠোর জবাব দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রস্তুত। পাকিস্তান থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা উস্কানির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতো অভিযানের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সামরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু অস্বস্তি রয়ে গেছে। শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় গ্রহণ, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে পাকিস্তান থেকে চীনের তৈরি জেএফ-১৭ (JF-17) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের চিন্তাভাবনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post