একটাই মন্তব্য। আর তা নিয়ে তোলপাড় পদ্মাপার। মন্তব্য তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূসের। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব।
প্রথম প্রশ্ন আওয়ামী লীগ কেন ভুল স্বীকার করবে? আর যে প্রস্তাব তিনি দিলেন, অর্থাৎ রিকনসিলিয়েশন, সেই প্রস্তাব তো তিনি আগেই দিতে পারতেন। তাঁর বিদায় যখন প্রায় নিশ্চিত, সেই সময় তাঁর মুখ দিয়ে এই রিকলসিলিয়েশন, ক্ষমা ইত্যাদি-ইত্যাদি সব গালভরা শব্দ উচ্চারণ করছেন কেন? তাহলে কি কোথাও তিনি বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন? হাসিনা কিন্তু জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন নেই। কারণ, তার সরকার যে সব পদক্ষেপ করেছে, সেটা দেশের, দেশবাসীর স্বার্থে, জাতীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে। এতোদিন ধরে তিনি তো আওয়ামীল লীগের বিরুদ্ধে কত কথা বলেছেন। দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা রুজু করে তাদের জেলের ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছন। হাসিনা এবং তাঁর দল যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য পাকাপাকি ব্যবস্থা করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতীক ফ্রিজড করিয়েছেন। সেনাবাহিনীর যে সব অফিসার হাসিনার নির্দেশ কার্যকর করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করে তাদের বাকি জীবন নরক করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এখন কেন তার মুখে রিকনসিলিয়েশনের মতো গালভরা শব্দ শোনা যাচ্ছে। তাহলে কি তিনি হাসিনার সঙ্গে সমঝোতা করতে চাইছেন? সেটা সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বার্তা দিতে চাইছেন।
আওয়ামী লীগের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন যে নেই তা নয়। কিন্তু সেই পদক্ষেপ এতটা মারাত্মক নয় বা দেশ বিরোধী নয়। তাই, সেই সব সমালোচনা উন্নয়নের তোড়ে পদ্মায় ভেসে গিয়েছে। আওয়ামী লীগের সব থেকে বড়ো ভুল তিনি ওয়াকারের মতো একজন বেইমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ করেছেন। আর জেনারেল ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে আমেরিকা হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছে, ২০২৪-য়ের ৪ অথবা ৫ জুলাই আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লে কোনওভাবেই এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হত না। হাসিনা এ ক্ষেত্রে বাহিনীর গোপন অভিসন্ধি বুঝতে পারেননি। কোনও কোনও প্রান্ত থেক বলা হচ্ছে, তাকে সেই সময় ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। ওয়াকার হাসিনার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, প্রতারণা করেছে বাংলাদেশের সঙ্গে।
ইউনূস বলছেন আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে তিনি হাসিনাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি দেশের সঙ্গে, দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন? তিনি তো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে তো ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই পরিকল্পনা আমেরিকার। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর হাসিনা বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। প্রথম দিকের সাক্ষাৎকারে তাঁকে খুব একটা আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যায়নি। যখন বুঝতে পারলেন, ইউনূসকে বাংলাদেশে পাকাপাকিভাবে ‘থাকার’ একটা ব্যবস্থা করতে চলেছে, তখন তাঁকে আমেরিকার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায়। পরিষ্কার তিনি বলেছিলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার হাতে তুলে দিলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হত না।
আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া বেশ কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পদ্মাপারে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত তদারকি সরকার প্রধান? আর সেটা বুঝতে পেরেই কি তিনি রিকনসিলিয়েশনের কথা বলছেন? তারপর আবার এটাও বলেছেন যে এখন আর সেটা সম্ভব নয়। আসলে পরিস্থিতি তার সব হিসেব গুলিয়ে দিয়েছে।












Discussion about this post