সপরিবারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে নানান কৌতূহল বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেকের এই বৈঠক নিছকই সৌজন্য, নাকি এর পিছনে রাজনৈতিক কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান যমুনায় পৌঁছান। তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও ছিলেন। তাঁরা দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মত সৌজন্য সাক্ষাৎ হল মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের।
কি কি আলোচনা হল দুই পক্ষের, আদৌ কি কোনও রাজনৈতিক আলোচনা বা দেশ পরিচালনা সংক্রান্ত কোনও আলোচনা হয়েছে দুজনের মধ্যে? এটাই এখন মূল চর্চার বিষয়। উল্লেখ্য গত বছরের ১৩ জুন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর লন্ডন সফরকালে প্রথমবার তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠক কোনও ভাবেই সৌজন্য ছিল না। কারণ ওই বৈঠকের পরই অনেকের আপত্তি সত্ত্বেও ইউনূস সাহেব কার্যত ভোটের সময় জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময়ই তিনি জানিয়ে দেন ২০২৬ সালের রমজান মাসের আগেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে হচ্ছেও তাই। লন্ডনে তারেক-ইউনূস বৈঠক এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি নেতাদের প্রবল আপত্তিও ছিল। এবার তাদের দেশে ফিরেছেন এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক দেশে ফেরায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংক অভূতপূর্বভাবে পরিবর্তন হয়েছে।
বহু দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তারেকের সঙ্গে পরস্পর সাক্ষাৎ করেছেন, বৈঠক করেছেন। এমনকি প্রথা ভেঙে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক তারেক রহমানের কার্যালয় গিয়ে বৈঠক করে এসেছেন। যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। সবদিক দেখেশুনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে যেন তারেক রহমান নির্বাচনে জিতেই গিয়েছে। আগামী দিনের তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতও তারেক রহমানের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করে এসেছেন। এখন প্রশ্ন হল কেন তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন? প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসই বা তাঁর সঙ্গে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করলেন?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, যেহেতু তারেক ও মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক দেড় ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলেছে সেহেতু বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুজনের মধ্যে। এবং তা অবশ্যই আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত। একটি অংশের দাবি ইউনুস সাহেব বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি হওয়ার খোয়াব দেখছেন। আবার জামায়াতে ইসলামীর মত দল নির্বাচন পরবর্তী একটি জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিএনপি যদি একাই সরকার গঠন করার মতো জনমত পেয়ে যায় সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর কোন দলই যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে জাতীয় সরকার গঠনের পথ খোলা থাকবে। মুহাম্মদ ইউনূস যে কোনও মূল্যে তাঁর পুনর্বাসন চাইছেন। আর সেটা একমাত্র বর্তমান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। ফলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার এই দীর্ঘ বৈঠকে এই ধরণের কোনও বার্তা যেতেই পারে। অন্যদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের উপর যে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, বিশেষ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিয়ে চাপ আছে সেটা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে নির্বাচন পরবর্তী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা এক কথায় বলাই বাহুল্য। এই বৈঠক নিয়ে কোনও পক্ষই মুখ খোলেনি। শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হয়েছে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ কেন দেড় ঘন্টার বেশি হবে? এটাও একটা প্রশ্ন।












Discussion about this post