বাংলাদেশের উদিয়মান যুবনেতা ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতারির তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। এই বিষয়ে ক্রমশ চাপ বাড়ছিল মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের উপর। হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ থেকে শুরু করে হাদির পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউনূস সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করেছে। এই আবহেই ইনকিলাব মঞ্চ আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরী এবং খোদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে লাগাতার চাপ বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জানা যাচ্ছিল প্রধান উপদেষ্টা তাঁর উপদেষ্টা মণ্ডলীতে রদবদল করতে চলেছেন। বাংলাদেশের এক প্রভাবশালী পত্রিকা মানবজমিন এই দাবি করেছে। তাঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপদেষ্টা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের উচ্চ পদেও রদবদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই পত্রিকা আরও দাবি করেছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর জায়গায় বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। ঘটনাচক্রে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এখনও তাঁর স্বপদে বহাল তবে, খোদাবক্স চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তবে কাহানি মে এক ট্যুইস্ট হ্যায়।
বুধবার রাতে সে দেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরী। জানা গিয়েছে, খোদাবক্সের ইস্তফাপত্র গ্রহণও করেছেন রাষ্ট্রপতি। তবে কেন তাঁর ইস্তফা, কেনই বা তা গ্রহণ করা হল, সেটা নিয়ে কোনও পক্ষই মন্তব্য করেনি। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইনকিলাব মঞ্চকে আপাতত শান্ত করতেই বলির পাঁঠা করা হল তাঁকে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অত্যন্ত কাছের এবং প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। ইউনূস তাঁকেই বাংলাদেশের পরবর্তী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা করতে চাইছেন। কিন্তু মাঝখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী তথা সেনার শীর্ষ আধিকারিকরা। যার মধ্যে বাংলাদেশ আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্যতম। ভিতরের খবর, খলিলুরকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা করার পরিকল্পনা জানাজানি হতেই তীব্র বিরোধিতা করতে শুরু করে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান-সহ কয়েকজন শীর্ষ সেনাকর্তা। আর এই কারণেই আপাতত জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদ টিকে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগের সময় থেকেই তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাঁর বিতর্কিত অবস্থান নিয়েও উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিশেষ ‘হিউম্যানিটেরিয়ান করিডর’ প্রস্তাব নিয়ে খলিলুর সেনাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার সে সময় ওই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ‘নো ব্লাডি করিডর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন বলেও জানা গিয়েছিল। মজার ব্যাপার হল, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হওয়া সত্বেও খলিলুর রহমানের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সেনাবাহিনী। বলা হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী যার বাংলাদেশের সকল সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রধান উপদেষ্টার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে খলিলুর রহমানের এ হেন ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একেবারেই মেনে নেবে না তা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। আসলে খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পরিচয় রজার রহমান নামে। তাই সেনাবাহিনী ছাড়াও আরও কয়েকটি দিক থেকে তাঁর নাম নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তবে যেটা জানা যাচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূস নাকি এই বিষয়ে তারেক রহমানকে পাশে পেতে চাইছেন। তারেককে রাজি করিয়ে খলিলুরকে নিয়ে একটা সর্বদলীয় সম্মতি করিয়ে নিতে চাইছেন কৌশলী ইউনূস। সে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী খানিকটা পিছু হটতে পারে। এখন দেখার এই প্রসঙ্গে তারেক কতটা সাড়া দেয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post