১৯৭১ থেকে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে সে দেশের পালাবদল ঘটেছে বহুবার পদ্মা দিয়ে গড়িয়েছে বহু জল। তার শেষ সংযোজন ছাত্র আন্দোলনের নামে জুলাই যোদ্ধাদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পতন এবং ক্ষমতার সিংহাসনে ইউনূসের আগমন। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় সে দেশের ক্ষমতায় রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূস। ও তার গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউনুস সরকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সে দেশে দুর্গাপুজো হয় চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে অবস্থিত সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতিটি সকাল হয় এক গভীর আতঙ্ক নিয়ে। মবের নামে স্ব-মহিমায় চলে হত্যাকান্ড। যেখানে সুরক্ষিত নেই সরকারী জিনিসপত্র আন্দোলনের নামে উপদেষ্টাদের চোখের নাগালের মধ্যেই চলে দেদার লুটপাট। ইউনূস রাজত্বের অত্যাচারের খতিয়ানের নতুন সংযোজন সনাতন হিন্দু দিপু দাসের হত্যা। যা বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিদেশের রাজনীতিকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আর ইউনূসের উলঙ্গ মনোভাব চা চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব মহলে। এ কোন বাংলাদেশ? ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে এমন উলঙ্গ বাংলাদেশের চিত্র দেখবার জন্যই কি প্রাণ দিয়েছিল সে দেশের শত শত মুক্তিযোদ্ধারা? বাংলাদেশের এই নোংরা চিত্র দেখার জন্যই কি ১৯৭১ এ তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার জন্য নথিপত্রে সই করেছিলেন? ভারতের গণমাধ্যম হিসাবে নিউজ বর্তমান তো এই প্রশ্ন আজ তুলতে বাধ্য হচ্ছে।
কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের ময়মনসিংহে খোলা রাস্তায় জনসমক্ষে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা এবং তার পরবর্তী নৃশংস দৃশ্য ঘিরে বাংলাদেশের মবের নামে সন্ত্রাস প্রসঙ্গ চর্চার শিরোনামে আসছে।এর আগে গত ৯ অগস্ট ভ্যান চোর সন্দেহে রুপালাল দাস ও প্রদীপ দাসকে জনতার পিটিয়ে মারার ঘটনাও মব সন্ত্রাসের আরও এক নিদর্শন।দীপু দাসের মৃত্যুর পরও অমৃত মণ্ডলের মৃত্যুও বাংলাদেশে গণপিটুনিতে হয়। একের পর বাংলাদেশে সনাতনী হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বাংলাদেশে ইউনূস আমলে উঠে আসার মাঝেই সেদেশে ‘মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। রিপোর্টে উঠে আসা পরিসংখ্যান এক প্রকার ইউনূসের রাজত্বে ঘটে চলা সমস্ত কুকীর্তির খতিয়ান প্রকাশ করছে।সদ্য বাংলাদেশে গত ১৭ মাসে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন সেদেশে একবছরের মেয়াদ শেষ করা যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। অন্যদিকে আসক-র রিপোর্ট বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই সময়কালে বাংলাদেশে কমপক্ষে ২৯৮ জন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন, তার থেকেও চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট যার মধ্যে বেশিরভাগ জনই হলেন সে দেশে বসবাসকারী গরিব সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। আসক-র রিপোর্টকে তুলে ধরে একপ্রকার ঘি এ আগুন ঢাললেন সে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম প্রথম আলো। প্রথম আলো এই প্রতিবেদন তুলে ধরে ইউনূসের মুখোশ খুলে দিতেই বাংলাদেশে হুলুস-তুলুস পড়ে গেছে কুচক্রীকারি মোঃ ইউনূসকে নিয়ে। ঘটনাক্রমে বাংলাদেশ বিরোধী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও ইউনুসপন্থীরা সে দেশের গণমাধ্যম এই প্রথম আলোকেই অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়ার মতন ঘটনাও ঘটিয়েছে। অন্যদিকে ইউনুসের রাজত্বে মবের নামে দেদার গণহত্যার পরিসংখ্যান আসকের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা উল্লেখ করে সে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মৃতের সংখ্যা ১২৮ জন, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা ১৯৭ জন। ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাস আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, বলে আসকের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। আর তা পুরোটাই হয়েছে মোঃ ইউনূসের রাজত্বে।
আসকের রিপোর্ট আরো বলা হয়েছে- কোনও ধরনের প্রমাণ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শুধুমাত্র সন্দেহ ও গুজবকে মূলধন করে অবনীলায় মানুষকে মারধর ও হত্যা করা হয়েছে।এছাড়াও রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে-বেআইনিভাবে মব তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, সরকারি অফিস-আদালত ভাঙচুর,বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, এমন কি আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সনাতনী হিন্দুদের উপর অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডের মতন ঘটনাও ঘটছে ইউনূসের আমলে। এছাড়াও কবর থেকে লাশ তুলে সেই লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত অশান্তির কান্ডারী ইউনূসের জামানায়। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রিপোর্ট উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিরুদ্ধ মতের মানুষকে নানাভাবে হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উদাসীনতার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসে মৃত্যু ২০২৫ সালে কোথায় কোথায় বেশি, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে আসকের রিপোর্ট বলছে, রাজধানী ঢাকায় এই সংখ্যা মারাত্মকভাবে সর্বাধিক বেশি। ঢাকায় মব সন্ত্রাসে মৃতের সংখ্যা ২৭, গাজিপুরে ১৭, নারায়ণগঞ্জে ১১, চট্টগ্রামে ৯, কুমিল্লায় ৮, ময়মনসিংহে ৬। রিপোর্টে এক বিস্ফোরক তথ্যে বলা হয়েছে, এই বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বাংলাদেশে কমপক্ষে ৪৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মন্দিরে হামলা, বসতবাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জমি দখলের মতো ঘটনাও রয়েছে। বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মন্দিরে ১টি হামলার ঘটনাও রিপোর্টে উঠে আসে। ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরেও বারবার ভাঙচুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই রিপোর্টে।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে গত দেড় বছর ইউনুস কিভাবে বাংলাদেশের উপর নিজের রাজত্ব জাহির করতে অবনীলায় মবের নামে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশে প্রকাশিত এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সে দেশের আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে সে দেশের সাধারণ জনগণ ইউনূসকে সরিয়ে শান্তির আশায় কাকে সিংহাসনে আনবে।
ক্ষেত্র প্রস্তুত। এবার ভোটের মুখে সম্মুখ সমরে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও তদারকি সরকার। আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চলেছেন...
Read more












Discussion about this post