একে একে নিভেছে দেউটি।
কার, সেটা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের। আমেরিকাকে মিত্র ভেবেছিলেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দেওয়ার সুযোগে প্রায় গোটা ক্যাবিনেট বিমানে চাপিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আশা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হবে। ক্লিক ক্লিক ক্লিক – মানে ছবি তুলবে। ওনাকে বলবেন বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা। কোথায় কী। ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলা তো পরের কথা, ভদ্রলোক ইউনূসের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজনটুকু বোধ করেনি। এবার ইউনূস পড়েছেন মহা ফ্যাসাদে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁর দেশের কিছু পাওয়ার কথা ছিল। আমেরিকায় এখন শাটডাউন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সেনেটে প্রশাসনিক তহবিল বিল অনুমোদন করতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিলটি পাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বুধবার থেকে সরকারি কাজকর্ম স্থগিত হয়ে যাবে এবং হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শাটডাউনের প্রভাব সরকারি দফতর ও সাধারণ জনগণের ওপর ব্যাপকভাবে পড়বে। বিমান চলাচল, সামাজিক প্রকল্প, গবেষণা ও বিনিয়োগসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে, ইউনূস সে দেশ থেকে কোনও সাহায্যই পাবেন না। এতোদিন বাংলাদেশ যা পাচ্ছিল, তা হাসিনা আমলের ঢাকা-ওয়াশিংটন চুক্তির দৌলতে। কিছু পণ্য পৌঁছতে দেরি হওয়ার কারণ বাংলাদেশের কিছু ব্যাংক ডলার দিতে পারছিল না। এখন ইউনূসের সামনে একটাই পথ খোলা। তাহলে গোপাল অতি সুবোধ বালক-য়ের মতো দিল্লি যেমন যেমন বলবে, তেমন তেমন করা। স্মরণ করা যেতে পারে, ইউনূস যে সব দেশের কাছে সেফ প্যাসেজ চেয়েছিল, তার মধ্যে ভারতও ছিল। ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তদারকি সরকার যোগাযোগ করলে ভারতীয় দূতাবাস কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইউনূসকে ভারতের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনওভাবেই সেফ প্যাসেজ সম্ভব নয়। তবে হাসিনাকে বাংলাদেশে ঢোকার সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে তার বিনিময়ে একটা কিছু ভাবা যেতে পারে।
সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে ইউনূসকে সেফ প্যাসেজ দিতে রাজি হয়েছে। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তদারকি সরকারের উপদেষ্টার সঙ্গে ‘জিতিও’র একটি সাক্ষাৎকার। সংস্থার বিশিষ্ট সাংবাদিক মেহদি হাসান ইউনূসের কাছে জানতে চান, কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণ করা হয়েছে। জবাবে ইউনূস বলেন, দলকে নয়, দলের কার্যকলাপকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাও সেটা সাময়িক। তাঁর কাছে এটাও জানতে চাওয়া হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে আইন করে বিরত রাখা যুক্তি সঙ্গত। জবাব দিতে গিয়ে ইউনূস বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে। মনে হয়, তারা বিষয়টি বিচার-বিবেচনা করে দেখবে।
ইউনূসের এই পাল্টি খাওয়ার খবর পেয়েছে সাউথব্লক। সাউথব্লকের এটা জানতে বাকি নেই যে একসময় যাঁরা ইউনূসের কাছের মানুষ ছিল, তারা এখন আর তাঁর সঙ্গে নেই। ভদ্রলোক এখন একবার এর দুয়ারে এবং তাঁর দুয়ারে।
ভারত এটাই চেয়েছিল। চেয়েছিল ইউনূস সব দিক থেকে প্যাঁচে পড়ে দিল্লির দ্বারস্থ হোক। ফাঁস যখন টাইট হবে, তখন তাকে ধরা হবে। দিল্লি আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে হাসিনা এখনও সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। ফলে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে হাসিনাকেই করতে হবে। ফলে, যা কিছুই হবে এই বছরের মধ্যেই হয়ে যাবে। হাসিনা দেশে ফিরবেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post