অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালীনই এই রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাগুলি শুনতেন। সে সময় তিনি একাধিক রায় দিয়েছিলেন, যা নিয়ে রাজ্যের শাসকদল উষ্মা প্রকাশও করেছিল। প্রাক্তন বিচারপতি বর্তমানে বিজেপি সাংসদ। ফলে তাঁকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ আরও মাত্রা পেয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ মনে করেন, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া বহু রায় কিন্তু সুপ্রিম কোর্টও খণ্ডন করেনি। তিনিই একসময় ২০১৬ এসএসসি মামলায় মন্তব্য করেছিলেন অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করে যোগ্যদের আলাদা করা হোক। আজ সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় দিয়েছে। এই মুহূর্তে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তমলুকের বিজেপি সাংসদ। ফলে দাগি বা অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের পর তাঁর প্রতিক্রিয়াও বেশ চড়া হবে সেটা বলাই বাহুল্য।
২০২১ সালে নভেম্বর মাসে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতির জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রাক্তন বিচারপতি সম্প্রতি একাধিক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে। তাতেই উঠে এল বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য। ওই সাক্ষাৎকারে শিক্ষক নিয়োগে বেলাগাম দুর্নীতি নিয়ে নিজের মতামতও জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর দাবি, বহু চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন নতুন নিয়োগে। তাঁদের মধ্যে কিছু অযোগ্য এখনও থেকে যেতে পারেন। যাঁদের নাম এই তালিকায় আসেনি। অভিজিৎ বাবুর প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট বলছে, তারপরেও তারা আবেদন করছে। একটা তো কোথাও সাহস বা কোনও একটা ভরসা জায়গা থাকে, কোথা থেকে আসছে? তাঁর ইঙ্গিত যে শাসকদলের দিকেই এটাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, যে রাজনৈতিক নেতাদের টাকা দিয়ে তাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরাই এখন তাঁদের ভরসা জোগাচ্ছেন, তোদের কোনও চিন্তা নেই, আমরা আছি। আবার অভিজিৎ বাবুর বিস্ফোরক দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশন ১০ হাজার চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সেখানে নিয়োগপত্র দিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি লোককে। এটা কী করে সম্ভব হয়? এই কারণেই কল্যাণময় বন্দ্যোপাধ্যায়রা গ্রেফতার হয়েছিলেন। এসএসসির নতুন পরীক্ষা নিয়েও যে তাঁর কোনও ভরসা নেই সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর কথায়, স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপর সব আস্থা আমি হারিয়েছি। আমার মনে হয় না, ওরা আর সুন্দরভাবে কিছু করতে পারবে। যদিও বিরোধী দলনেতার এক দাবিও খণ্ডন করেছেন বিজেপি সাংসদ। কিছু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বিধানসভায় গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের চাকরি ফেরানোর ব্যাপারে তোড়জোড়ের দাবি জানান। এই বিষয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, যদি বিধানসভায় কোনও প্রস্তাব আনা হয়, বিরোধীরাও সেটা সমর্থন করবে। এই বিষয়ে আইনজ্ঞ বিজেপি নেতা বললেন, আইনগত দিকে সম্ভব নয়। যে ক্যান্ডিডেটরা গিয়েছিলেন খুব আশা নিয়ে, তাঁদের নিরাশ হতে হবে।












Discussion about this post