নবম- দশম নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালত থেকে জামিন পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিম্ন আদালতে সাত হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেছে। কিন্তু এখনই জেল মুক্তি হচ্ছে না প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রীর। যদিও আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা সিবিআই জামিনের বিরোধিতা করেছে। তাদের যুক্তি, প্রতিটি মামলার চরিত্র আলাদা, দুর্নীতির ধরন ভিন্ন, পাশাপাশি এই দুর্নীতি সমাজে বিরাট প্রভাব ফেলেছে। নানান যুক্তি সাজিয়ে আদালতে সিবিআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন না দেওয়ার দাবি জানায়। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে শেষমেশ বিচারক পার্থের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সিবিআইয়ের করা গ্রুপ সি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেবারও জেল মুক্তি হয়নি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর।
২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতি প্রক্রিয়াতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালের ২২ জুলাই ইডি প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নথি ও প্রমাণ উদ্ধার করে। পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে নগদে প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। আর তার সাথে উদ্ধার হয় প্রচুর বিদেশী মুদ্রা ও সোনার গয়না। নিয়োগ দুর্নীতিতে বেআইনিভাবে লেনদেনের অভিযোগে ওই বছরই ২৩ জুলাই পার্থ এবং অর্পিতাকে গ্রেফতার করে ইডি। এবং ২৭ জুলাই অর্পিতার বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরো ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছিল বহু মূল্যবান গয়নাএবং তার সাথে নানা বৈদেশিক মুদ্রা। সব মিলিয়ে অর্পিতার দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৪৯ কোটি ৮ লাখ টাকার গয়না উদ্ধার হয়েছিল। কম করে হলেও সাত কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, এই সম্পত্তির মালকিন কিভাবে হয়েছিলেন অর্পিতা?
সেই সময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময়কার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগেই সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছিল। এবার নতুন করে পরীক্ষায় বসতে চলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আর ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যই জামিন পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পার্থর মতোই স্বস্তি মিলেছে ইমাম মোমিন, পঙ্কজ বনসল, নীলাদ্রি দাস, আব্দুল খালেক, পর্ণা বসু, সমরজিৎ আচার্য, দিলীপ ভৌমিক, রোহিত ঝা, সুবীর ঘোষ, জুঁই দাস এবং সৌমিত্র ঘোষদের। তবে জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও অশোক সাহার।












Discussion about this post