বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারলেন না কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।
২০১৭ সালের ১৩ ই নভেম্বর আলিপুর কোর্টে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।
২০১৭ সাল থেকে আলিপুর আদালতে বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। শোভনের সঙ্গে থাকতে চান বলে আদালতে পাল্টা আবেদন করেন রত্না, কিন্তু দুজনের আবেদনই খারিজ করে দেয় আলিপুর আদালত।
২০১৭ সালের ১৩ ই নভেম্বর আলিপুর কোর্টে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় শোভনের হয়ে আদালতে সাওয়াল করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়, সেবার কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় এবং রত্না চট্টোপাধ্যায় বচসায় জড়িয়েছিলেন।
পাশাপাশি, পুত্র ঋষিকে নিয়ে আদালতে আসতে দেখা গিয়েছিল বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে।দীর্ঘ ৮ বছর এই মামলার শুনানি চলার পরে, দুপুরে ১:৩০ নাগাদ এই নির্দেশ দেওয়া হয় শোভন আইনত স্বামী থাকলেও একসঙ্গে থাকতে পারবেন না রত্না।
২০১৭ সালের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মারধর , কটুক্তি এবং মানহানির মত অভিযোগ এনেছিলেন শোভন। দীর্ঘদিন ধরেই শোভন যে অভিযোগগুলি এনেছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সেগুলোর মধ্যে একটিও প্রমাণ করতে পারেননি আদালতে তিনি। রত্নার এই ডিভোর্সের মামলা নিয়ে অনেক টানা পোড়েন চলছিল। এই অভিযোগগুলি প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি শোভন বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করলেও একসঙ্গে থাকতে চেয়ে পাল্টা আবেদন জানিয়েছিল রত্না চট্টোপাধ্যায় কিন্তু সেটাও খারিজ করে দেওয়া হয় আদালত থেকে।
শোভন বিবাহ বিচ্ছিন্ন হলেন না এবং রত্না তার স্বামীর সঙ্গে একত্রবাসের সুযোগ ও পেলেন না। শোভন তার বান্ধবী বৈশাখী বন্দোপাধ্যায় সঙ্গে যেমন থাকেন তেমনই থাকতে পারবেন। তবে রত্নার নাম থাকবে শোভনের আইনত স্ত্রী হিসাবেই।তবে রত্না চট্টোপাধ্যায় এই রায় কে জয় হিসেবেই দেখছেন।
আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি জানান গত, ৮ বছর ধরে লড়াই করছি । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ক্ষমতার কাছে হেরে যেতে হয়েছে সব নারীদের। আট বছর ধরে অন্যায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি বাচ্চাদের জন্য। তাদের ওপর যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে মানসিকভাবে সেই লড়াইটা আমি আট বছর ধরে লড়লাম এবং আমার সঙ্গে ওনার শ্বশুরবাড়ি, আমার বাপের বাড়ি, এই সমস্ত অ্যাডভোকেটরাও আমার সাথে ৮ বছর ধরে লড়াই করেছে।রায় ঘোষণার পর অবশ্য শোভন এবং বৈশাখীর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে ঋষি মায়ের জয় নিয়ে খুশি প্রকাশ করল এবং বাবাকে আমন্ত্রণ করলেন সমস্ত দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে আবার একসঙ্গে থাকার জন্য।
এখন দেখার পালা যে, ছেলের ডাক গোলপার্কের বাড়ি থেকে পর্নশ্রীর বাড়িতে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফেরাতে পারে কী না?












Discussion about this post