ফের একবার, সামনে এলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, এবার তার বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলো বিজেপি। সোমবার এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সীমান্তে অনুপ্রবেশ আটকাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ এর দায়ভার স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূল এবং বিজেপি সংঘাত একেবারে চরমে পৌঁছল।এবং মহুয়ার মৈত্রের এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যে বড়সড় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি জানা গিয়েছে ২৬ অগস্ট, কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে সরকারি পরিষেবা প্রধান অনুষ্ঠানে এই ঘটনাটির সূত্রপাত ,সেখানেই বাংলায় অনুপ্রেবশ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে মহুয়া মৈত্রকে এই মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে যে,ভারতের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব যদি কেউ না নেয়, আর অন্য দেশের মানুষ যদি আমাদের জমি দখল করে নেয়,নাড়ীদের ওপরে চোখ তোলে, তা হলে তার জন্য প্রথমেই অমিত শাহের মাথা কেটে টেবিলে দেওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যদি সীমান্ত রক্ষা করতে না পারে, তা হলে দোষটা কার?’
বিজেপির অভিযোগ, সাংসদ হয়েও তিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিয়েছেন।জানা গিয়েছে ,কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় মহুয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নদিয়া জেলার উত্তরের বিজেপি মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার। এর পাশাপাশি, সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য রীতিমতো অপরাধ। সাংসদ মহুয়া মৈত্র আসলে খুনের পরিকল্পনার আভাস দিয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এর আগেও বেশ কয়েকবার এ ধরনের মন্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন।এবং তিনি দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও সমালোচন ঝড় তুলেছিলেন একসময় কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু মন্তব্য করে দলের ভেতরে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলেন । এবার তিনি সরাসরি আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।
বিজেপির পাল্টা জবাবে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মহুয়া মৈত্র ,তার এক্স হ্যান্ডলে মহুয়া মৈত্র পোস্ট করেছেন যে, ‘বিজেপির ট্রোল সেলের কাজের পদ্ধতি — একটি বিষয় বেছে নিয়ে সেটি সমস্ত নির্বোধ মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটিকে ভাইরাল করা। আজকের বিষয় হলো মহুয়া মৈত্রের ব্যবহার করা মাথা উড়িয়ে দেওয়ার রূপক। বন্ধুরা, আমার কুখ্যাতি দীর্ঘজীবী হোক। আমি এটা ভালোবাসি।’
অনেকেই প্রকাশ করেছেন যে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি মহুয়া মৈত্র ক্ষমা না চায় তাহলে তাকে গ্রেফতার করা উচিত এবং কবে গ্রেপ্তার করা হবে মহুয়া মৈত্রকে সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ঘিরে উঠছে এই প্রশ্ন। ইতিমধ্যে কৌস্তুভ বাগচি টিটাগর থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
পাশাপাশি,দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য তৃণমূল সাংসদকে গ্রেপ্তার করা হোক বলে দাবি জানানো হচ্ছে ।











Discussion about this post