শেষমেষ আরজিকর কাণ্ডে সারা দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। নতুন করে আসায় বুক বাঁধছেন নির্যাতিতার মা এবং বাবা। তবে কি সুরাহা হতে চলেছে আরজি কর কাণ্ড?
আর জি করের ঘটনার এক বছর কেটে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায় ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি সিবিআই। কিন্তু তারপরও হাল ছাড়েনি নির্যাতিতার মা বাবা। এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দপ্তর থেকে ইমেইল এলো নির্যাতিতার বাবা মায়ের কাছে।
জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পাঠানো ইমেলে উল্লেখ রয়েছে, তার আপ্ত সহায়ক খুব শীঘ্রই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এবং তাদের যা সমস্যায় এবং বক্তব্য সেগুলি সমাধান করবেন। এরপরে নির্যাতিতার পরিবারের তরফে জানানো হয়, লড়াই এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি। বরং উল্টে নতুন করে আসার আলো দেখতে পাচ্ছেন তারা।
আরজিকরের কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একমাত্র ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেনি সিবিআই। আসলে নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, একা সঞ্জয় রায় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। যদিও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সঞ্জয় রায় আজীবন কারাগারে থাকবে। কিন্তু তারপরও ন্যায় বিচার পায়না বলে অভিযোগ পরিবারের।
তবে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি দপ্তরে নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর কাছে সুবিচারের আবেদন করেছিলেন নির্যাতিতার পরিবার। কিন্তু তার কোন উত্তর মেরেনি বলে অভিযোগ নির্যাতিতার বাবার। কয়েকদিন আগে দিল্লি গিয়েছিলেন তারা। সিবিআই ডিরেক্টর এর সঙ্গে দেখা করলেও সম্ভব হয়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করার।
তবে রাষ্ট্রপতির থেকে এমন বার্তা আসতে, খানিকটা আশার আলো দেখেছেন নির্যাতিতার পরিবার। তারা জানান, এটা তাদের কাছে একটা বড় ব্যাপার। আসলে তাদের অভিযোগ, ইচ্ছে করে প্রমাণ গোপন রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বিচার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে। গত বছর ১৪ই আগস্ট রাতে দেখা গিয়েছিল রাত দখল করেছিলেন শহরের মানুষ। এ বছরও ঠিক একই ছবি দেখল এই মহানগরী। অর্থাৎ অনেকেই ভেবেছিলেন আরজিকর ঘটনার রেশ থেমে গিয়েছে। কিন্তু এদিন প্রমাণিত হল, যারা লড়াই শুরু করেছিল তারা এখনো থেমে যায়নি। এমনকি নির্যাতিতার পরিবার এখনও অভিযোগ করছেন, সঞ্জয় রায় ছাড়া বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত। আর সেটাই ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি থেকে এমন বার্তা আশায়, নতুন করে তারা বুক বেঁধেছেন।












Discussion about this post