বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের তরফে জানানো হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসের দিন বা ১৫ই আগস্ট যারা মুজিবকে শ্রদ্ধা জানাতে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। তবে সাধারণ মানুষ দমে যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এমনকি মব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এটা স্পষ্ট হলো, মহম্মদ ইউনূসের সমর্থন বাংলাদেশে ঠিক কতটুকু! কেউ কেউ বলছেন, ১৫ ই আগস্ট জিতে গেল বঙ্গবন্ধুই।
গত বছর ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শান্তি হয়নি। ফের ৫ই ফেব্রুয়ারি ছাত্র নেতারা বুলডোজার নিয়ে গিয়ে ভেঙে ফেলে ভগ্নপ্রায় বাড়িতে। এমনকি অগ্নিসংযোগ করা হয়। তারা ভেবেছিল, বঙ্গবন্ধুর ভারী ধুলসিত করে দিলে মানুষের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলা যাবে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য সফল হল না। প্রধান উপদেষ্টা প্রেস সচিব সফিকুল আলমের চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পায়নি বাংলাদেশের জনগণ। যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসে এবং মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করে, তারা সেদিন গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে। কিন্তু তাদের ওপর মব চালানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদেরকে মারধর করা হয়েছে। এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে ইউনূসের পুলিশ বাহিনী। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ফলে আওয়ামী লীগের কেউ সমর্থক হলে সরকারের রোশনালে পড়বে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী মানুষদের কিভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসন অত্যাচার চালাতে পারে?
এই ছাত্রনেতারা সম্প্রতি জুলাই ঘোষণা পত্র প্রকাশ্যে এনেছে। এরপর তারা বলছে মুজিববাদী সংবিধান নাকি তারা ফেলে দেবে। এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুজিব বাদী সংবিধানের শপথ নিয়েই এই অন্তরবর্তী কালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। তাহলে তো এই সরকারের কোন মূল্য থাকবে না। আর সেটা জেনে বুঝেই তারা এখন সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলছে না। এমনকি পার পায়নি রিকশাচালক। যে ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে দেখা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাবে বলে তিনি ৪০০ টাকা দিয়ে ফুলের তোড়া কিনেছেন। এদিকে তার দিন গুজরান হয় কোন রকমে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে তিনি সেটি সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছেন। এখান থেকেই বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
তবে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এদিন যে পরিস্থিতি দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল, মুজিবের সমর্থন কতজন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থন কতজন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে গিয়ে এটাই প্রমাণিত হয়ে গেল, জিতে গেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।












Discussion about this post